টুয়াটারার কথা বলছি। এটি দেখতে টিকটিকি-গিরগিটির মতোই একধরনের প্রাণী, যার তিনটি চোখ আছে। সরীসৃপ প্রাণীর মধ্যে একমাত্র টুয়াটারাকে রাইনকোসেফ্যালিয়া গ্রুপে রাখা যায়। এটি দেখতে টিকটিকির মতো হলেও এদের শরীরের অভ্যন্তরীণ গঠন টিকটিকি থেকে আলাদা। একমাত্র নিউজিল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে টুয়াটারা পাওয়া যায়। পূর্ণবয়স্ক পুরুষ টুয়াটারার ওজন ১ কেজি আর একই বয়স্ক স্ত্রী টুয়াটারার ওজন ৫০০ গ্রাম।
পৃথিবীতে টুয়াটারার অস্তিত্ব প্রথম খুঁজে পাওয়া যায় প্রায় ২ কোটি বছরেরও আগে। টুয়াটারার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার সময়ের দিকের দৈহিক গঠন আর বর্তমান সময়ের দৈহিক গঠনের বেশ পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
এ প্রাণীর সবচেয়ে অদ্ভুত আর আশ্চর্যের বিষয় হলো- তিনটি চোখ। টুয়াটারার তৃতীয় চোখটা মোচার মতো আকৃতির। একে পিনিয়েল আই বলা হয়। এটি পাইন গাছের মতো মোচাকার। মাথার মাঝামাঝি একটি গর্তে এই চোখের অবস্থান। চোখের উপরে একটা চোখের পাতা আছে যা অন্য চোখগুলোর সাথে বন্ধ হয়। এই প্রাণী আর তৃতীয় চোখ কিভাবে কখন ব্যবহার করে তা কেউ বলতে পারে না। তবে ধারণা করা হয় প্রাচীনকালে চোখটা কোনো না কোনো কাজে লাগত। সাধারণত এরা রাতেই চলাচল করে। এরা গর্ত খুঁড়ে তার মধ্যে বাস করে। টুয়াটারা খুব লজ্জাশীল আর বিশ্রামশীল প্রাণী। এরা বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়, ব্যাঙ, ইঁদুর, পাখির ডিম প্রভৃতি খায়।
টুয়াটারার গড় আয়ু ৭৭ বছর। তবে কিছু কিছু টুয়াটারা ১০০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। স্ত্রী টুয়াটারা গর্ত থেকে কিছু দূরে গিয়ে আট থেকে ১৫টা পর্যন্ত ডিম পাড়ে। ডিম পাড়ার পরবর্তী গ্রীষ্মকালে ডিমে তা দেয়। ডিম ফোটাতে প্রায় এক বছর লাগে। টুয়াটারা বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে।