ছয়.

মজিদ গাজী আবার গান ধরে, ‘ল্যাঠা মাছটা ক্যাতক্যাতায়, শিং মাছে চাটি দেয়। কী মাছ ধরিছো বড়শি দিয়া, ও বাবুজি...’

এত বড় একটা ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বাড়িতে গিয়ে যে অভ্যর্থনা পাবো ভেবেছিলাম তেমন কিছুই হলো না। আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেও বাড়িতে তখন জীবনের আগমন ঘটছিল। আর সেই আগমনে সবাই এত ব্যতিব্যস্ত ছিল যে আমার পানিতে পড়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে মজিদ গাজীর টেনে তুলে নিয়ে আসাটা যেন সাধারণভাবে পানিতে গোসল করতে যাওয়ার মতো। শুধু মা ব্যাপারটার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরে মজিদ গাজীর গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করল। দুপুরে আমাদের বাড়িতে খেয়ে যেতে বলল, যদিও তেল না থাকায় কী দিয়ে রান্না হবে তাই নিয়ে মা চিন্তিত। মজিদ গাজী জানাল, চাচী, আজ থাক। আরেক দিন এসে খাবো। আজ সারা দিন ফেরি করেছি। তারপর জলার পানিতে ভিজেছি। বাড়িতে গিয়ে গোসল করে খাবো। আর ওরেই একটু গোসল করিয়ে দেন।
মজিদ গাজী জীবনের উৎসবের ওখানে একটু উঁকি দিয়ে দেখল। আমাদের গাভীন ছাগলের বাচ্চা হয়েছে। দু-দুটো নয়। তিনটে। আর সেই উত্তেজনায় আমার বোন সেলিনা, কাজের মহিলা মিনু খালা আর মা সবাই আবার সে দিকে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। কারণ ছাগলের দুটো বাচ্চা মায়ের বুকের দুধ খেতে পারলেও তিন নম্বর বাচ্চাটা পারছে না। বাচ্চাটাকে একটু অসুস্থ মনে হলো। কারণ আপা একটা ছটফটে বাচ্চাকে ধরে রেখে অসুস্থটাকে সুযোগ করে দিলেও সে ছাগলের বাঁট মুখে নিয়েও টানছে না।
(চলবে)