নয়.
আমি দুধভেজা পলতেটা মুখের মধ্যে ধরি। তাতে কিছুটা দুধ তো পেটে যাবে।’
আমি আপুর দিকে তাকিয়ে ঠিক পাখির মতো করেই দু’দিকে মাথা নাড়লাম, ‘দুধ দিয়েও কাজ হবে না। ওটা বাঁচবে না। মরে যাবে।’
আপু আমার দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে বলল, ‘আগেই সব জেনে বসে আছিস, গাধা কোথাকার। অলক্ষুণে ডাক ডাকছে। যা, ওঠ আমার সামনে থেকে। মা, তোমার ছেলেকে এখান থেকে যেতে বলো। মুখে অলক্ষুণে কথা।’ আমি উঠে দাঁড়ালাম। আপুর ভাবভঙ্গি ভালো নয়। মেরে বসতে পারে। কারণ এই ছাগলটা আপুর। বাচ্চাগুলোও তার।
আমি উঠোন থেকে বারান্দায় উঠে এলাম। প্রায় শুকিয়ে আসা গায়ের ভেজা গেঞ্জি খুলে ফেললাম। তখনই আপুর কান্নার আওয়াজ ভেসে এলো। বেশ জোরালো আওয়াজ। ‘মা, মা।’ পশুপাখি-গরু-ছাগলের প্রতি আপুর মমতা অসীম। সে কারণেই তাদের প্রতি সব দরদ ঢেলে দেয়। পশুপাখিও মানুষের মমতা বোঝে। ওরাও আপুকে ভালোবাসে। এই ছাগলছানাও আপুর কাছে সন্তানসম।
আপুর কান্নার শব্দ শুনে রান্নাঘর থেকে মিনু খালা, বড় ঘর থেকে মা বেরিয়ে উঠোনে এলো।
আমি বারান্দা থেকে নড়লাম না। জানি, কেন এই কান্না! ছাগলের বাচ্চাটা মারা গেছে। আর সেটি মরার আগেই কেউ আমাকে জানিয়ে গেছে!
পানিতে ডোবার পর, মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার পর আমার মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা এসেছে কি না সেটি আমি ঠিক ধরতে পারি না। বাড়ির অন্যরা যে ধরতে পারিনি, তাও বুঝলাম আমার প্রতি তাদের আগের মতোই আচরণে। (চলবে)
