দশ.

শুধু ওই দিনের ঘটনা শুনে আমার ডাক্তার আব্বা ভারিক্কি গলায় মাকে বললেন, ‘সবুরকে ডেকে কাল থেকেই ওকে ভালোভাবে সাঁতারটা শেখাতে বলো। সাঁতার শেখা থাকলে এ রকমটি হতো না।’
আব্বাকে আমি বলতে পারলাম না, আমি সাঁতার জানি। হয়তো পাকা সাঁতারুদের মতো; মাছের মতো সাঁতার কাটতে পারি না। তবে একটু আধটু তো পারি। পুকুরে গিয়ে গিয়ে পাড়াপড়শির কাছ থেকে শিখেছি। কিন্তু ওই দিন সাঁতার শেখা থাকলেও কিছু হতো না। আমি তো পানিতে পড়ে যাইনি। গাবগাছের ভূত আমাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে জলাশয়ের পানি-কাদার মধ্যে পুঁতে রেখেছিল। ভাগ্য ভালো, পাখি এসে আমাকে বাঁচিয়েছে। আর মজিদ গাজী আমাকে টেনে তুলেছে।
পাখির প্রতি এক ধরনের মমত্ববোধ থেকেই বিকেলে মাঠে খেলতে না গিয়ে পাখিদের বাড়িতে চলে এলাম। ওদের বাগানে করমচা ধরে। পাকা করমচা খেতে মজা লাগে। দু-একটা দিলেই ধন্য হয়ে যাই। মনে মনে ছড়া কাটি, লেবুর পাতায় করমচা/যা বৃষ্টি ঝরে যা।
পাখিরা অনেক বোন। ছেলেসন্তানের আশায় পাখির বাবা-মা একের পর এক বোন পৃথিবীতে এনেছে। ছয় বোন হওয়ার পরেই ছেলেসন্তান বাবুর মুখ দেখেছে তারা। পাখির বোনদের নামেও বেশ মিল। লাকি, আঁখি, রাখি, সাকি, পাখি, খুকি। বাড়িভর্তি মেয়ে। তাদের হৈহুল্লোড় লেগেই আছে। আমি মুখচোরার মতো ওদের বাড়ির গেটে গিয়ে দাঁড়ালাম।
রূপচর্চা করতে থাকা সুন্দরী বিবাহযোগ্য বড় বোন লাকি বারান্দা থেকে আমাকে হাত ইশারা করে ডাক দিলো। (চলবে)