একুশ.
পানির মধ্য থেকে খুব আলতো করে নিঃশব্দে ঘাটের কাঠের উপরে উঠে এলো।
এত পানির মধ্য থেকে এলেও তার গা থেকে এক ফোঁটা পানিও গড়িয়ে পড়েনি।
পাখিকে দেখে কোনো ভয় পেলাম না। বরং ভরসা পেলাম। অশরীরী পাখি না হয়ে অন্য কোনো জীবন্ত মানুষকে ওই সময় পানির মধ্য থেকে মাথা তুলে বেরিয়ে এলেই বোধ হয় আমি ভয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতাম। কিন্তু পাখিকে যেন আমি যেকোনো জায়গায় যেকোনো পরিবেশে আশা করতে পারি।
পাখির দিকে তাকিয়ে মনে হলো, আমি যে ওকে খুঁজতে গোরস্থানে গিয়েছিলাম, ওর কবরের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম, তাতে ও খুশি হয়েছে। আজকে আর চোখ লাল দেখাচ্ছে না অথবা হ্যারিকেনের আলোয় আমি ভালোমতো বুঝতে পারছি না। পাখি আমার দিকে সরাসরি তাকাল, তারপর পুকুরের দক্ষিণ পাশে যেখানে বাঁশঝাড় হয়ে কালো জামের মতো অন্ধকার জমাট বেঁধে আছে সেদিকে তাকাল। ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে আমিও সেদিকে তাকালাম। আর ওই বাঁশঝাড়ের দিক থেকে কিছু একটা চরে বেড়ানোর বন্য শব্দ পেলাম। আমি পুকুরপাড় থেকে একটু উঠে চিৎকার করে ভয়ার্ত গলায় ডাকলাম, ‘মা, ও মা।’
বাড়ির উঠোন থেকেই মা সাড়া দিলো, ‘কি হলো? ভয় পেয়েছিস নাকি?’
‘তুমি এদিকে এসো।’
পাখি কাঠের সিঁড়িতে যেখানে বসেছিল সেদিকে তাকালাম। কেউ নেই। কোনো চিহ্নও নেই। আমার ডাকাডাকি হাঁকাহাঁকিতে চলে গেছে। কোথায় গেছে আমি জানি না।
বড় বড় পা ফেলে মায়ের আসার শব্দ শুনলাম। অন্ধকারের মধ্যেই চলে এসেছে। আমি হ্যারিকেন উঁচিয়ে ধরলাম। মা আমার কাছে এসে বলল, ‘কি রে, কি হলো?’
(চলবে)