সাতাশ.

আমি একটু বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘ওই বোতলের মধ্যে জিন বন্দী আছে। বাড়ি বন্ধনের সময় বন্দী করে রেখেছিল। আমি শুনেছি।’
সবুর আমার কথায় পাত্তা দিলো না। শেষমেশ আমি ঘ্যানঘ্যান করছি দেখে বলল, ‘শাবল রেখে যা। আবার পুঁতে দিচ্ছি।’
আমি শাবল রেখে দিলাম। এরকম সময় মায়ের ডাক শোনা গেল, ‘আলু তুলতে গিয়ে নিজেরাই আলু হয়ে গেলি নাকি?’
রান্নাঘরে আলু রেখে হাতের কাদামাটি ধোয়ার জন্য পুকুরে এলাম। ঘাটের কাছে এসে পুকুরের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলাম পুকুরের মাঝখানে সবুজ মতো রোদের আলো লেগে চকচক করা কী একটা যেন ভাসছে।
হাত ধোয়া মাথায় উঠল। ঢিল মেরে মেরে সবুজ জিনিসটাকে পুকুরের এক কিনারার দিকে নিলাম। জিনের সেই সবুজ বোতলটাই। ভয়ে ভয়ে নিচু হয়ে পুকুরের কিনার থেকে বোতলটা ডাঙায় টেনে তুলে হতভম্ব হয়ে গেলাম।
বোতল খালি!
বোতলের মুখ খুলে সবুর ভেতরের জিনটাকে বের করে দিয়েছে!
খালি বোতলটাকে ওখানেই ফেলে দিলাম। মাকে বলব বলব করেও কী মনে করে যেন বললাম না। রাতে মায়ের মুখে শুনতে পেলাম, আমাদের পাশের বাড়ির বিবাহিত মেয়ে সখিনার ঘাড়ে জিন লেগেছে। বাপের বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। সন্ধ্যায় খোলা চুলে পায়খানায় গিয়েছিল। সেখান থেকেই জিনে ধরেছে। কৌতূহলী আপু দেখতে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু মায়ের কড়া চোখরাঙানিতে থমকে গেল। মিনুখালার সাথে আমি যেতে চাইলে মা অনুমতি দিলো।
(চলবে)