ছত্রিশ.
নিজের মতো কাজ করে যায়।
সুশান্তদার ঘটনার পর থেকে আমি আর কখনো আমার উইশফুল থিংকিং পাখিকে কোনো ব্যাপারে জড়াতে চাই না। সে কারণেই সবুরের ব্যাপারে কোনো ইচ্ছেই নেই। সবুর তো এখনো কিছুই করেনি।
আমি ভয়ে ভয়ে থাকি। পাখি যেন সবুরের কোনো ক্ষতি না করে সেই প্রার্থনা করি। আর আশা করি, সবুর যাতে ভুলভাল কোনো কিছু না করে বসে।
দুপুর বেলা সবাই বাড়ির দিকে। আব্বাও চেম্বার থেকে এসেছেন। খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছি। আব্বা বাড়িতে এসে সবুরকে পুকুরের সামীনার জংলা ঘাস ছেঁটে পাড়গুলোকে যতটুকু পারে সমান করতে বলেছেন। সবুর তাই করছে। হঠাৎ করে পুকুরের দিক থেকে সবুরের হেড়ে গলার চিৎকার ভেসে এলো, ‘চাচা, ও চাচা!’
আব্বা বারান্দায় বসেছিলেন। তাতে নেমে পায়ে নাগরা গলিয়ে ত্রস্তপদে পুকুরের দিকে এগিয়ে যেতে লাগলেন। আমিও রান্নাঘর থেকে এক লাফে বেরিয়ে পড়লাম। আমার কেন জানি মনে হতে লাগল, পাখি কিছু একটা করেছে। হয়তো কোনো সাপকে আদেশ দিয়ে সবুরকে ছোবল দিতে বলেছে। পাখি ইচ্ছে করলে কী না পারে!
ছুটে গিয়ে দেখি অন্য কাণ্ড!
সবুরের কোদালের আঘাতে মাটি ফুঁড়ে উঠে এসেছে মানুষের হাড়গোড়!
পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া মানুষের কংকাল!
আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধ্বক করে উঠল। সবুরের ডাকে মা আর আপুও এসেছে। আব্বা কংকাল দেখে যেন কিছুই হয়নি এরকম ভঙ্গিতে বললেন, ‘এতদিন পরেও এই মাটিতে এখনো কংকাল পাওয়া যায়। পোড়া কংকাল!’ (চলবে)
