সাঁইত্রিশ.
আব্বার এই রহস্যময় কথার আমরা কোনো মাথামুণ্ডু বুঝতে পারলাম না। আব্বা রহস্য রেখেই বললেন, ‘সবুর ভালো করে খুঁজে দেখ আরো কিছু পাওয়া যায় কি না! হাত, পায়ের অংশ, মাথার খুলিটুলি!’
সবুর আরো বেশি গভীরে খুঁড়তে খুঁড়তে বলল, ‘চাচা, মনে হয় না, আরো কিছু আছে।’ তারপর আপুর দিকে চোখ পড়তেই নিজের কাজে মনোযোগী হয়ে বলল, ‘আরো খুঁড়ে দেখি!’
আব্বা মায়ের দিকে তাকিয়ে রহস্যময় ভঙ্গিতে বলল, ‘সেই কথাটার আরো একবার প্রমাণ পাওয়া গেল।’
মা জানতে চাইল, ‘কোন কথাটা?’
‘এই ভিটে আগে ছিল নদীর চরা। আর এখানেই ছিল তখনকার শ্মশানঘাট। সেই শ্মশানের আধপোড়া হাড়গোড় এখনো এই মাটির নিচে গাথা আছে।’

জিন পোতা থাকায় বাঁশঝাড়ের দিকে এমনিতেই ভয় করতো, এখন আবার পোড়া কংকাল পুঁতে রাখায় ভয়ের পরিমাণ আরো বেড়ে গেল। পুকুরপাড়ে গেলে উল্টোদিকের বাঁশঝাড়ের দিকে তাকিয়েই মনে হয় ওখানে ভূত প্রেত জিন প্রেতাত্মা সব মজমা বসিয়েছে।
মেঘলা দুপুরে আপু আর আমি পুকুরে গোসল করছি। হঠাৎ করে আমার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ে মনে হলো পুকুরপাড়ের ওপাশে বাঁশঝাড়ে কেউ একজন যেন আছে। আগের দিনের সেই লাল গাইয়ের মতো সবল উপস্থিতিতে নিজেকে জানান দিতে চাইছে না সে, নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চাইছে। তখনই ভয় ধরে গেল মনে। তাহলে কি বাঁশঝাড়ের বাকি দুই জিন বেরিয়ে পড়েছে? নাকি সেদিনের পোতা সেই পোড়া কংকালই উঠে এসেছে কবর থেকে?
(চলবে)