বায়ান্ন.

আর আশ্চর্যের ব্যাপার, আমার গলার চাপ শিথিল হয়ে আসাতে, একটু স্বাভাবিক অবস্থায় ধাতস্থ হতেই আলোর রয়ে যাওয়া রেশের মধ্যে দেখতে পেলাম আমার গলা ছেড়ে দিয়ে সেই অন্ধকারের পিশাচ মূর্তিমান আতঙ্ক পোড়া সেই পিশাচটা সরীসৃপের মতো বুকে হেঁটে সরসর করে ঘরের আড়ার উপর দিয়ে কোথায় যেন হাওয়া হয়ে যায়!
সম্বিত ফিরে পেতেই আমি সর্বশক্তি দিয়ে মা কে ডাকার চেষ্টা করলাম। পিশাচটা আমার গলা চেপে ধরার কারণে কিনা জানি না চিচি করে একটু আওয়াজ বের হওয়া ছাড়া কোনো শব্দই বের হলো না। মাটি থেকে উপরে তুলে ফেলে দেয়ার কারণে গায়ে পায়েও তেমন যেন কোনো শক্তি পাচ্ছি না! উঠেও ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারছি না।
আমার সামান্য চিচি শব্দে মা ডাকও জায়নামাজে অবস্থানরত মায়ের মনকে নাড়িয়ে দিলো। কোথাও কোনো কিছু একটা হচ্ছে ভেবে এই ঘরে দৌড়ে এসে আমাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে। তাড়াতাড়ি আপু আর মা ধরাধরি করে আমাকে বারান্দার খাটে নিয়ে আসে। আব্বা এখনো বাড়ি আসেনি। সবুর ইদানীং সন্ধ্যের পরে আর এ বাড়িতে থাকে না। এরকম অবস্থা সামাল দেয়ার মতো কোনো পুরুষ মানুষ বাড়িতে নেই।
মা দোয়া দরুদ পড়ে আমার চোখে মুখে পানি ছিটাতে থাকে। আমি অচেতন হয়নি, কাজেই ঠাণ্ডা পানিতে কেঁপে উঠি। তখনই মিনুখালার গলায় শুনতে পাই। ‘খালাম্মা, ছোটভাইয়ের গলা ওগুলো কিসের দাগ? কালো কালো?’
আপু আমার গলার কাছে হ্যারিকেন উঁচু করে ধরে। (চলবে)