তিপান্ন.
আমি উঠে বসে বললাম, ‘মা, পানি খাবো।’
মিনুখালা তাড়াতাড়ি রান্নাঘর থেকে গ্লাস ভর্তি করে পানি নিয়ে এলো। কয়েক চুমুক খেয়ে রেখে দিলাম। মা জিজ্ঞেস করল, ‘এখন একটু ভালো লাগছে?’
‘হুঁ। আর ভয় করছে না মা।’ আমি স্বাভাবিক গলায় বললাম।
আপু একটু হাসি ঠাট্টায় পরিবেশটাকে স্বাভাবিক করতে চাইল। ‘তোর সেই ভালো ভূতটা আসেনি? নাকি সেই এসে তোকে রক্ষা করেছে?’
মা খর চোখে আপুর দিকে তাকাল।
আমি উপর নিচ মাথা নাড়লাম। ‘তবে এবারে ওর শরীরের আলো এসে আমাকে রক্ষা করেছে। সাদা আলো।’
মা আপু দুজনেই অবাক চোখে আমার দিকে তাকাল। এরকম কথা এরা এর আগে শোনেনি।
এশা আজানের পর পরই আব্বা এলো। ততক্ষণে আমি পুরোপুরি স্বাভাবিকই বলা যায়। ভূতের ভয় তো নেই, এমনকি কোন ভয়ডরও নেই। আব্বা এসে টর্চের আলো গলায় বিভিন্নভাবে দিয়ে ভালোভাবে ডাক্তারিভাবেই পরীক্ষা করে দেখে বললেন, ‘নাহ, গলায় দাগের ধরনটা ঠিক সেরকম না। মানে ডাক্তারি মতে দেখে কোনো দাগের সাথে মিলছে না। দাগটা কেমন যেন অন্যরকম। একেবারে যেন ভেতর থেকে ফুটে উঠেছে।’
মা বিরক্ত স্বরে বলল, ‘অলুক্ষণে কি সব কথা বল। ভেতর থেকে ফুটে উঠবে মানে?’
আব্বা দ্বিধায় পড়ে গেলেন। ‘না, মানে, বাইরের কোনো কালির দাগ না। পোড়া দাগ।’
(চলবে)
