জানো, নভোথিয়েটার বলতে সাধারণত একটা জায়গাকে বোঝায় যেখানে কিছু বিশেষ যন্ত্রপাতি থাকে, আর সেই যন্ত্রপাতির সাহায্যে কৃত্রিম আকাশ দেখানো হয়। এটা মূলত জ্যোতির্বিজ্ঞান ও নাবিকদের শিক্ষা দেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। সাধারণ মানুষও এটা দেখে মজা পায়। নভোথিয়েটার বলতে আমরা যে যন্ত্রকে বুঝি তাতে অনেকগুলো লেন্স, প্রিজম ও আয়না বিভিন্ন আঙ্গিকে বসানো থাকে। আর এ যন্ত্র থাকে গোল গম্বুজাকার একটা ঘরে। এ ঘরের ছাদের কৃত্রিম আকাশকে লক্ষ করে সূর্য, চাঁদ, গ্রহ তারাসহ সৌরজগতের বিচিত্র সব জিনিস দেখানো হয়। সেই সাথে দেখানো হয় নভোমণ্ডলের জ্যোতিষ্ক, নক্ষত্রের অবস্থান ও গতিবিধি। এর প্রদর্শিত দৃশ্যগুলো চমৎকার ও মুগ্ধকর।
১৯২৩ সালে পূর্ব জার্মানির জেনার ‘জিস অপটিক্যাল কোম্পানি’র ‘ওয়ালজার বায়ারস ফ্রেন্ড’ নামে এক ব্যক্তি প্রথম ঢ়ষধহবঃধৎরঁস বা নভোথিয়েটার তৈরি করেন। যন্ত্রটি গোল গম্বুজাকার একটি ঘরে রাখা ছিল। আসল আকাশের চেহারা যন্ত্রটি তুলে ধরতে পারত।
বিভিন্ন জ্যোতিষ্ক এক বছরের অবস্থান ও গতিবিধি খুব কম সময়ের মধ্যে উপস্থাপন করতে পারত। পৃথিবীর বড় শহরে লোকজনকে শিক্ষা দেয়ার জন্য নভোথিয়েটার স্থাপন করা হয়। রাশিয়ার মস্কোতে পৃথিবীর বড় নভোথিয়েটার অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোয় একটা নভোথিয়েটার আছে। ভারতের মুম্বাইয়ে নেহরু আর কলকাতার বিড়লা নভোথিয়েটার বিশ্বের নামকরা নভোথিয়েটারগুলোর তালিকায় অবস্থান করছে । আমাদের দেশে ১৯৭৪ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ই নভোথিয়েটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। বর্তমানে ঢাকার বিজয় সরণিতে আধুনিক ও তথ্যবহুল বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার বিখ্যাত।