এক.
সে হাঁটছিল থপ থপ করে। পেছন থেকে কে যেন ডাকল ‘অ্যাই অ্যাই।’ সে পেছন ফিরে তাকাল না। তার নাম ‘অ্যাই অ্যাই’ না যে তাকাতে হবে। যার নাম ‘অ্যাই অ্যাই’ সে তাকাবে। সে হাঁটার জোর বাড়িয়ে দিলো। জগিংয়ে জোরেই হাঁটতে হয়। দৌড়াতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। শরীরে পোষায় না বলে হাঁটে। পেছন থেকে আবার ডাকল, ‘অ্যাই, মোটা অ্যাই।’ সে রেগেমেগে দাঁড়িয়ে পড়ল। রাগে তার চোখমুখ লাল হয়ে গেছে। সে হাঁপাচ্ছে। রাগলে তার হাঁফ ধরে যায়। শরীর হাঁসফাঁস করে। তোতলামি এসে যায়। কেউ তাকে মোটা বলে ডাকলে সে অসম্ভব রেগে যায়।
‘কো-কো-কো-ন ভূ-ভূতের বা-চ্ছা রে? চা-চালাবাজির জায়গা পাস নে?’ সে পিছন ফিরে তাকাল। কোথাও কেউ নেই। এত সকালে কেউ পার্কে আসে না। জগিংয়ের লোকজন আরেকটু বেলা হলেই আসে।
সে আবার হাঁটা ধরতেই পেছন থেকে ডাক দিলো, ‘অ্যাই মোটা ভূত।’ এবার গলা খুব কাছ থেকে। গলাটা কেমন চেনা চেনা লাগছে।
এবারে সে না রেগেই দাঁড়িয়ে পড়ল। এটুকু হেঁটেই তার শরীরে ঘাম ঝরা শুরু করছে। সে তাকে দেখতে পেল। পার্কের বেঞ্চের পিছনে কদম গাছ। কদম গাছের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে একটা বাঁশ হেলান দেয়া। বাঁশের মাথায় একটা কালো হাঁড়ি বসানো। কাকতাড়–য়ার হাঁড়ি। হাঁড়ির গায়ে সাদা চুন দিয়ে চোখ নাক মুখ আঁকানো।
সে কদম গাছের দিকে এগিয়ে এলো। ‘কিরে রোগা ভূত এখানে দাঁড়িয়ে আছিস যে।’
রোগা ভূত অনেক কষ্ট করে বলল, ‘হাঁটতে দম লেগে আসে। দাঁড়িয়ে থাকতেই পা ভেঙে আসছে। (চলবে)