তেইশ.
গুটলু এরকম ভূতের ভয় পেয়েছে যে, সে খারাপ কাজ ছেড়ে দিয়েছে। এখন সে আব্বাছ খাঁর সাগরেদ হিসাবে তার পাশে পাশে ঘোরে।
আব্বাছ খাঁ গুটলুকে সাথে নিয়েই সকালে জগিংয়ে এলো। জগিংয়ের চেয়ে তার শারাফাত আলীর সাথে দেখা করাটাই জরুরি। আর জানে ঝড় বৃষ্টি বাদলা সাইক্লোন ভূমিকম্প যাই হোক শারাফাত জগিংয়ে আসবেই।
শারাফাতকে দেখে হাসি এলেও তা গিলে ফেলল আব্বাছ খাঁ। মোটা হতে হতে শারাফাত আলীকে এখন পিপের মতো লাগছে। আব্বাছ খাঁ নিজেও যে এখন পাটকাঠি থেকে ঝাঁটার কাঠির দিকে গেছে সেদিকে তার খেয়াল নেই।
তবে শারাফাত আলীকে দেখে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া হলো গুটলুর। সে যেন ভূত দেখার মতো চমকে উঠল। আব্বাছ খাঁর পিছনে মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল, ‘স্যার, ভূউউউত!’
আব্বাছ খাঁ ধমকের সুরে বলল, ‘কোথায় ভূত? এই দিনেদুপুরে ভূত দেখছ।’
গুটলু আগের মতোই ফিসফিস করে বলল, ‘স্যার, ওই যে আসছে। মোটা।’
আব্বাছ খাঁ আরেকটা ধমক দিলো, ‘ও ভূত নয়। আমার বন্ধু শারাফাত, ওর সাথেই দেখা করতে এসেছি।’
‘স্যার, আপনি বললে বিশ্বাস করবেন না। কাল রাতে আমি ওনাকে আপনার ভেতর থেকে বেরুতে দেখেছিলাম। এখনকার মতো স্পষ্ট না হলেও আমি নিশ্চিত ওনার ভূতই আপনার ভেতরে ঢুকে বসেছিল।’
‘কি বলছ আবোলতাবোল? জলজ্যান্ত মানুষ ভূত হতে যাবে কেন?’
‘জানিনে স্যার। নিজের চোখে যা দেখেছি তাই বলছি।’ (চলবে)