(গত দিনের পর)
সরপুঁটি বলে, না না। তোমাকে আমি চিনি। মাছখেকো সারস তুমি। আমাদের সাক্ষাৎ যম। এত সহজেই নিজের প্রাণটা দিতে যাবো কেন? তোমরা যে ভণ্ড। উপমাটি তো আর এমনি এমনি হয়নি।
সারস বলে, উপমা? কিসের উপমা?
সরপুঁটি বলে, ওই যে লোকে বলে ‘বক ধার্মিক’। তোমাদের দেখেই তো এই প্রবাদটি হয়েছে। তোমরা সাধুর ভান করে থাকো। আসলে বড় ধান্ধাবাজ। কোনো মাছ কাছে গেলেই খপ করে ধরে গপ করে খেয়ে ফেলো।
: আরে না। খাবো না। বরং তোমাদের বাঁচিয়ে রাখতে চাই আমি। তোমাদের নিয়ে আমার বড় চিন্তা। আর কয়দিনই বা এই জলাশয়ে পানি থাকবে? শুকিয়ে গেলে যাবে কই?
: হু, তা ঠিক বলেছ। আমরাও ভাবছি সেটি। এই চৈত্রের তপ্ত দুপুরে পানি কী যে গরম হয়ে যায়। টিকে থাকা দায়। কিন্তু কী করব? আমাদের তো আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।
: আমি তো সেই কথাই ভাবছি সরপুঁটি। মাস খানেক পরই পানি শুকিয়ে যাবে। তখন তোমাদের কী হবে? সে কথাই ভাবছি। তোমাদের নিয়ে ভাবনায় রাতে ঘুম পর্যন্ত হয় না আমার। বড় মায়া হয় তোমাদের জন্য। (চলবে)