একাশি.
বিজ্ঞান স্যার পকেট থেকে ভাঁজ করা কাগজ বের করে প্রিন্সিপালের হাতে দিলেন, ‘এই কাগজটা দেখেন।’
প্রিন্সিপাল কাগজের লেখাটা ভালোভাবে পড়ে বললেন, ‘এ তো এক্সম্যানেরই হাতের লেখা। সই-স্বাক্ষরও দেখছি। কিন্তু তারিখ দেয়া কই? লেখাটা তো ওর মরার আগেও হতে পারে!’
নেতাও কাগজটা হাতে নিলেন। এক্সম্যানের হস্তাক্ষর তিনি চেনেন না। কাজেই কোন মন্তব্য করলেন না।
‘না তারিখ দেয়া নেই।’ বিজ্ঞান স্যার মিয়ানো স্বরে বললেন, ‘কিন্তু তাতে বোঝায় না তিনি মৃত। তিনি বেচে আছেন।’ তিনি গোয়েন্দার মতো বললেন, ‘লেখাটার দিকে ভালো করে দেখলে বুঝতে পারবেন লেখাটা আজকালের মধ্যেই লেখা। কাগজটাও টাটকা।’
নেতার কিঞ্জিত ধৈর্যচূতি ঘটল। তিনি বিজ্ঞান স্যারের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনার কথামত বা এই কাগজের সূত্রমতে ধরে নিলাম এক্সম্যান বেঁচে আছে, তো তাতে অসুবিধেটা কী?’
‘অনেক অসুবিধে।’ বিজ্ঞান স্যার বললেন, ‘প্রথমত তিনি বেঁচে থাকলে পুরাতন ভবন ভাঙার কাজ করা যাবে না। কারণ ওখানে তার তথাকথিত গবেষণাগার আছে। লোকজন মনে করে, গবেষণা করে তিনি হাতিঘোড়া আবিষ্কার করবেন। দ্বিতীয়ত, তিনি স্কুলের মূল দলিলটার ব্যাপারে জানেন। তিনি যদি কোনো মতে মূল দলিলটা বের করেন, তাহলে আমাদের স্কুল মার্কেটের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।’
