জানো, বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার নৌকা তৈরির কারখানা বা স্থান আছে। সেসব জায়গায় তৈরি হয় বিভিন্ন রকমের নৌকা। এসব নৌকার মধ্যে কোষা নৌকাও এক রকমের ঐতিহ্যবাহী নৌকা। এখনো রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জের পাশ দিয়ে বয়ে চলা পদ্মা নদীতে ঐতিহ্যবাহী এ নৌকার দেখা মেলে। এ নৌকার বিশেষত্ব হলো, নৌকার তলা প্রায় সমতল। আকৃতিতে পূজার উপকরণ তামার তৈরি এক ধরনের তৈজসপত্র কোষার মতো বলে এ নৌকার এমন নাম। এ নৌকার তলাকে বলে বাঁকা, ফ্রেমকে বলে কুইনা, পাশের ফ্রেমকে বলে গোচা ও পাটাতনের বিমকে বলে গুড়া। ছোট আকারের কোষা নৌকাকে বলে কোষাডিঙি বা ছোট কোষা। এসব নৌকার সাধারণত কোনো ছই বা চাল থাকে না। কোষাডিঙি মাত্র ৪.৫ থেকে ৬ মিটার লম্বা ও ২.১ থেকে ২.৪ মিটার চওড়া হয়। এটি খেয়াঘাটে স্বল্পযাত্রী পারাপার বা স্বল্পদূরত্বে যাত্রী বহন, বিল থেকে কাটা ধান বয়ে আনা, মাছ ধরা ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। এসব নৌকা মাত্র একজন মাঝি বৈঠা বেয়ে চালায়। অন্য দিকে একই গড়নে অনেক লম্বা আরেক ধরনের কোষা নৌকা আছে, যার নাম বড় কোষা। এসব নৌকা লম্বায় ১৮ থেকে ২০ মিটার হয়। বর্তমানে এসব নৌকায় ইঞ্জিন লাগিয়ে মালামাল বহন, দূরের যাত্রী বহন, বালু ও মাটি টানা ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোষা নৌকার গড়ন ও নির্মাণ এখন কিছুটা বদলে যাচ্ছে। এখন এসব নৌকা কাঠের বদলে লোহা ও ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। তার পরও এটি টিকে আছে। ছবি : সংগ্রহ