জানো, বরিশালে নানা রকমের বৈচিত্র্যপূর্ণ মিষ্টি পাওয়া যায়। এসব মিষ্টির মধ্যে গুঠিয়ার সন্দেশ অন্যতম। ঐতিহ্যবাহী গুঠিয়ার সন্দেশ পাওয়া যায় বরিশাল থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া বাজারের মিষ্টির দোকানগুলোতে। বরিশাল থেকে বানারীপাড়া যেতে পথে পড়ে গুঠিয়া বাজার। স্থানীয়দের মতে, প্রায় দেড় শ’ বছর আগে জনৈক মিষ্টির কারিগর সতীশ ঘোষ এই সন্দেশ প্রথম তৈরি করেন। বংশ পরম্পরায় সে ঐতিহ্য এখনো বহমান। এর পাশাপাশি গুঠিয়া বাজারের আরো অন্তত ১২টি মিষ্টির দোকানে বর্তমানে এই সন্দেশ তৈরি ও বিক্রি হয়। ধারণা করা হয়, মাধবপাশায় জমিদার বংশের পত্তন ও প্রাচীন জনপদ চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী হয়ে ওঠার সাথে এই সন্দেশের ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। তবে সে ইতিহাস সঠিকভাবে কোথাও লিপিবদ্ধ নেই।
সন্দেশ সাধারণত নরম ও লঘুপাকের হয়। কিন্তু গুঠিয়ার সন্দেশ কড়াপাকের। এ জন্য এ সন্দেশ হয় কিছুটা শক্ত ও শুষ্ক। সুস্বাদু এই সন্দেশ আছে এক পল্লার ও দুই পল্লার। দুই পল্লার সন্দেশকে বলে জোড়া সন্দেশ। এই সন্দেশ তৈরির প্রধান উপকরণ দুধ ও চিনি, সাথে কিশমিশ। দুধ থেকে ছানা তৈরির পর তা দিয়ে সন্দেশ তৈরি হয়। ছানা বেশি সময় রেখে দিলে ভালো সন্দেশ হয় না। এ জন্য দুধ থেকে ছানা কাটার পর পরই তা একটি বড় লোহার কড়াইতে পাকে বা জ্বালে দেয়া হয়। কাঁচা ছানার সাথে কিছু ময়দাও মেশানো হয়। পাকের পর তা ডলে মিহি করা হয়। পাক কম-বেশির ওপরেই এ সন্দেশের স্বাদ ও গুণগত মান নির্ভর করে। পাকের পর তা চুলা থেকে নামিয়ে ছোট গোল্লা করে হাত দিয়ে জোড়ে একটি সমতল জায়গায় পরিষ্কার কাপড় বিছিয়ে ছুড়ে চ্যাপ্টা করা হয়। এরপর তার ওপরে মাঝখানে একটি পরিষ্কার কিশমিশ দানা বসিয়ে দেয়া হয়। এতে সন্দেশের সৌন্দর্য বাড়ে। গুঠিয়ার সন্দেশের রঙ সাদা। বর্তমানে বরিশাল শহরেও গুঠিয়ার সন্দেশ পাওয়া যায়। অনেকেই গুঠিয়ার মসজিদ দেখতে গেলে ঐতিহ্যবাহী এই সন্দেশ কেনেন, দূরে আত্মীয় বাড়িতেও পাঠান।