ছয়.
চোখ ডাইনে বায়ে ঘুরিয়ে, বন্ধ করে খুলে উপর নিচ তাকিয়ে নানান ব্যায়াম শেখানোর চেষ্টা করলেন। সে এক বিদিকিচ্ছি অবস্থা। চোখেরও যে ব্যায়াম হতে পারে অনিক এই প্রথম জানল।
আরেকটা বিষয় অনিকের একটু খারাপ লাগল। ডাক্তারের সাথে আম্মুর সম্পর্কটা কেমন যেন একটু গাঢ়ই মনে হলো। ডাক্তার রোগীর সম্পর্ক ঠিক নয়। তার ক্লাসের সামিয়াকে দূর থেকে ভালো লাগা থেকেই সে ব্যাপারটা বুঝতে পারে। টিনএজ বয়সে সম্পর্কের মান বুঝবে না, তা তো হয় না। টিভি মিডিয়া পত্রপত্রিকা ইন্টারনেট সব জায়গায় সম্পর্কের এত ছড়াছড়ি না বুঝতে চাইলেও বুঝিয়ে দেয়। অনিকের মনে হয় বাবা না থাকায় নিঃসঙ্গ জীবনে আম্মুও হয়তো তার মতোই একই রকম বন্ধুহীনতার কষ্টে ভোগে। আর সে কারণেই যাকে পায় তাকেই আঁকড়ে ধরে বন্ধুত্ব করতে চায়!
ডাক্তারের রুম থেকে বাইরে বেরিয়েই অনিক বলল, ‘চলো আম্মু, আমরা রুফটপ ক্যাফেতে যাই। ওখানে কি লাইভ মিউজিক হয়?
‘হয় বলেই তো শুনেছি। মিউজিকের প্রতি তোর আগ্রহ আছে নাকি?’
‘শুনিই তো ইউটিউবে, লিংকিন পার্ক।’
রুফটপ ক্যাফেতে এসে লাইভ মিউজিকের উচ্চ শব্দের মধ্যে মা ও ছেলের কথোপকথন হারিয়ে গেল। লাইভ মিউজিকের বিরতিতে ছেলেকে খুশি দেখে মিসেস জেরিন ওর বাবা না আসার কথাটা পাড়লেন। (চলবে)
