উনিশ.
অনিক খুব সাবধানে জানালার গ্লাস বন্ধ করতেই সেই অপার্থিব শব্দটাও ক্ষীণ হয়ে এলো এবং এবারে আরেকটি গলা কোনোা গেল একই রকম স্বরে, তবে এই গলাটা অনেক বেশি স্পষ্ট এবং এই স্পষ্টতার কারণেই অনিক বুঝতে পারল, ওটা দুই বিড়ালের ঝগড়া ছিল। বিড়াল ঝগড়া করে একেবারে মানুষের গলায়। সে আগেও শুনেছে। কিন্তু এখন মনটা অন্য কিছু কোনোার জন্য প্রস্তুত ছিল বলেই বিড়ালের গলাটা হুবহু মানুষের গলায় নিশির ডাকের মতো মনে হয়েছে। কিন্তু নিশি ডাকলে নাকি নাম ধরে ডাকে! তাছাড়া সে ছেলে মানুষ তাকে অ্যাই মেয়ে বলে ডাকার কিছু নেই। শকুন শিশু মানুষের মতো শব্দ করে কাঁদে। হায়না মানুষের মতো হাসে। আর বিড়াল মানুষের গলায় ঝগড়া করে।
যতই সবকিছুরই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিক, অনিক জানে মন কোনো ব্যাখ্যা মানে না। রুমের উজ্জ¦ল আলোর কারণে ব্যাখ্যাগুলো যতই যৌক্তিক মনে হোক, আলো নিভিয়ে আঁধার করে দিলেই মনের ভূতেরা চার দিক থেকে হানা দেবে। আর তার বয়সটা এরকম, এখন ভয় পাওয়ার কথা বলে মায়ের বিছানায় মায়ের সাথে ঘুমানো যায় না। তেরো চৌদ্দ বছরের বয়স আসলেই একটা বালাই...
গ্রাজ, ওয়ান মিসড কল, ওইজা বোর্ড, কনজুরিং এসব ভৌতিক ছবি দেখে তার ঘুমাতে গেলে ভয় লাগত, তখন অনিক হেডফোন কানে লাগিয়ে ল্যাপটপে আরো মুভি দেখে রাত কাবার করে দিতো। ফজরের আজানের সাথে সাথেই তার মনের ভেতরের সব ভয় যেন আজানের ধ্বনির সাথেই উড়িয়ে নিয়ে যেত। (চলবে)