বাইশ.
মা এসে ওকে ওভাবে বসতে দেখে বিরক্ত স্বরে বললেন, ‘এখনই ওটা নিয়ে বসে গেলি? দাঁতটাত ব্রাশ করে আগে নাস্তা করে নিতিস। সব ঠাণ্ডা হয়ে যাবে যে!’
অনিক মায়ের কথার কোনো উত্তর দিলো না। বাম হাতের নাকের ডগায় আসা চোখের ভারী কাচের চশমাটা উপরের দিকে ঠেলে দিয়ে মনোযোগ দিয়ে ঠিক দাগে দাগ মিলিয়ে এমনভাবে কাটার চালাতে লাগল যেন সে কোনো দর্জি।
মিসেস জেরিন রুটি ডিম প্লেটে সাজাতে সাজাতে ডাইনিং থেকেই বললেন, ‘অন্তত কুলকুচি করে মুখটা ধুয়ে আয়, আমি তোকে খাইয়ে দিচ্ছি।’
অনিক এক ছুটে বাথরুমে গেল। মুখে কয়েকবার কুলকুচি করে ট্রাউজারে হাত মুছতে মুছতে আবার এসে বসে পড়ল কার্টনের সামনে। মা দেখেও না দেখার ভান করলেন। অন্য সময় হলে ঠিকঠাকভাবে দাঁত ব্রাশ না করা এবং পরনের ট্রাউজারে হাত মোছার মতো অসভ্যতা দেখে বকাঝকা করতেন। কিন্তু বাবা আসেনি, বাবার পাঠানো উপহার এসেছে, সেই উপহার ছেলে আবেগের সাথে খুলছে এই সময়ে বকাঝকা করা যায় না। মা ছেলের পাশে সোফায় এসে বসলেন। হাতে নাস্তার প্লেট। রুটি আর কড়া করে আলু ভাজি অনিকের পছন্দ। তিনি রুটি ছিড়ে আলু ভাজি দিয়ে ছেলের মুখের সামনে ধরে বললেন, ‘হা কর।’
অনিক খেতে খেতে প্যাকেজ খুলে তার ভেতরের জিনিসগুলো দেখে একটু অবাক হলো। রোবট জাতীয় কিছু নয়, নয় ট্রান্সফর্মার কারো। (চলবে)