জানো, দাঁতরঙার অন্য নাম লুটকি, ইংরেজি নাম গবষধংঃড়সধ, উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম গবষধংঃড়সধ সধষধনধঃযৎরপঁস, পরিবার গবষধংঃড়সধপবধব. ফুলটি খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জঙ্গলে প্রথম দেখে খুব অবাক হয়েছিলাম। এত যার রূপরঙ, সে কি না পড়ে আছে একবারেই মানুষের চোখের আড়ালে, নিতান্ত অনাদরে। জংলাগাছ, তাই নগরে গাছটি দুর্লভ। তবে পাহাড়ের জঙ্গলে বেশ চোখে পড়ে। পরে অবশ্য মেলাস্টোমাকে সিলেট, মৌলভীবাজার এবং রাঙ্গামাটির প্রায় সব পাহাড়েই দেখেছি। দেখতে পেয়েছি পঞ্চগড়, হাতিবান্ধা ও ঠাকুরগাঁয়। লোকবিশ্বাস রয়েছে, যে মাটিতে লুটকি ফোটে সে মাটিতে চাগাছ ভালো হয়। মেলাস্টোমা অত্যন্ত কষ্টসহিষ্ণু গুল্মজাতীয় গাছ। গাছ প্রায় দুই মিটার লম্বা হয়। বেগুনি রঙের ফুল ফোটে গ্রীষ্ম-বর্ষায়। গাছে প্রচুর ফুল ফোটে। পাহাড়ি ফুলটি এখন বাংলার সমতলেও সুন্দর ফুল দিচ্ছে। লুটকি ফুল মাঝারি আকারের, ব্যাস প্রায় ৫-৬ সেন্টিমিটার, সুন্দর পাঁচটি হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি, হলুদ পরাগদ-। পাতা অবডিম্বাকার, চামড়ার মতো, হালকা পশমযুক্ত, পাতায় শিরাবিন্যাস অনেকটা সমান্তরাল, পাতা দেখতে কিছুটা তেজপাতার মতো। এ গাছ প্রায় দুই মিটার লম্বা হয়। ছায়া ও পাহাড়ি উদ্যানের জন্য উপযোগী। শাখা কলম করে এর চারা তৈরি করা যায়। মেলাস্টোমা এসেছে অস্ট্রেলিয়া বা ওশেনিয়া থেকে, মতান্তরে ও এই এশিয়ারই গাছ।
ছবি: লেখক