পঁয়ত্রিশ.
মিসেস জেরিন তাড়াতাড়ি যা খুঁজতে এসেছিলেন সেই বিষয়ে তৎপর হলেন। অনিক কি কাজে ছাদে গিয়েছে কে জানে! হয়তো তাড়াতাড়িই চলে আসবে। এর মধ্যেই খুঁজে দেখতে হবে। তিনি নাকের তীক্ষ্মতা বাড়িয়ে কুকুর বিড়ালের মতো গন্ধ শুকে শুঁকে বিছানার তলা, খাটের নিচ, ড্রয়ার, ওয়ারড্রোব, এটাচড বাথরুমের কোণা ঘুপচি সবই তন্ন তন্ন করে দেখে ফেললেন। কিন্তু ছেলে বিড়ি সিগারেট খায় এরকম বিন্দুমাত্র কোনো ক্লু তার নজরে এলো না। তিনি হতাশ হবেন নাকি আনন্দিত তা বুঝতে পারছিলেন না। অনিক ফিরে এলে ওর আশপাশে গন্ধ শুঁকে বোঝার চেষ্টা করবেন সিগারেট টেনে এসেছে কিনা!
অনিক হেঁটে হেঁটে ছাদে ওঠার জন্য সিঁড়ি ভাঙতে লাগল। আগের আমলের দাদার বানানো পাঁচতলা বাড়িতে কোনো লিফট নেই। সিঁড়ি ভাঙতে তাদের কোনো কষ্ট হয় না। তবে দাদা দাদির হয় বলেই তারা দোতলায় থাকেন এবং কখনো ছাদে ওঠেন না। ছাদের দরজার কাছে এসে অনিক একটু অবাক হলো। দরজার লকে একটা নতুন তালা ঝুলছে। অনিক বুঝতে পারল কার কাজ! বড়চাচি কাল রাতে ছাদের দরজা খোলা ছিল দেখে আজ নতুন তালা ঝুলিয়েছে। বড়চাচির ছাদ নিয়ে এত ভয় কেন?
অনিক পাঁচতলার কলিংবেল চাপল। বারবার কয়েকবার। কোনো সাড়া শব্দ নেই। হাতে থাকা জি-শকের ওয়াটার প্রুফ ঘড়িটার দিকে তাকাল। এখনো দুপুর বারোটাও বাজে নাই। এরকম দুপুরে তো বড়চাচির বাসায় থাকার কথা। (চলবে)