ছিয়াশি.
এতদিন পরে সুমির হত্যার ঘটনাটা মনে পড়ে গেল। বড়ভাই-ভাবী ওটাকে আত্মহত্যা বলে চালিয়েছিল। সেই সুমিই কি অশরীরি ভূত হয়ে অনিককে দেখা দিচ্ছে? অনিক তো তাকে কিছু বলেনি। হয়তো ওর বড়োচাচীকে বলেছে, সে কারণেই বড়ভাবী ডেকে জামাই আদর করে খাওয়াচ্ছে। ছাদের ব্যাপারটাও তাহলে ওই! মিসেস জেরিন দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে ফেললেন। ছেলে ড্রাগ এডিক্ট নয় তাতে যতটা না স্বস্তি পেলেন, ভূত দেখার কথা শুনে আবার অস্বস্তিতে পড়লেন। ডাক্তারকে সুমির আত্মহত্যার ঘটনাটা জানালেন। পারিবারিকভাবেই সবসময়ে ঘোষিত হওয়া এটা আত্মহত্যার ঘটনা হিসাবেই বলার জন্য।
ডাক্তার সব বুঝে ফেলেছেন এরকম ভঙ্গি করলেন। ‘আপনি যেটা ড্রাগ এডিকশন ভাবছেন ওটা আসলে হ্যালুসিনেশন, ভিজুয়াল হ্যালুসিনেশন। ওকে আমি সব বুঝিয়ে বলেছি। বুদ্ধিমান ছেলে, মনে হয় না আর কোনো সমস্যা হবে। বরং আপনি এগুলো নিয়ে খবরদারি করলেই ঝামেলা হবে। বাবা দেশে থাকে না তো, এসব ছেলেরা একটু সেন্টিমেন্টাল হয়!’
মিসেস জেরিন একটা দীর্ঘশ^াস ফেললেন। প্রবাসী স্বামীর স্ত্রীদের যতটা না কষ্ট তার আশেপাশের পুরুষেরা আরো বেশি কষ্ট অনুভব করে। ডাক্তারের রাউন্ডে যাওয়ার সময় হয়েছে। (চলবে)
