ঊননব্বই.
লিখন তো অনিকের ঘরেই আসন গেড়ে বসেছে, ‘জন্মদিনের বাবু, তুমি তোমার মতো অন্য অতিথিদের আপ্যায়ন করো। আমাদেরকে নিয়ে ভাবতে হবে না। আমরা নিজেরাই নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছি। হা হা হা।’
জন্মদিন উপলক্ষে মা বাসা অনেক গোছগাছ করেছেন। তার মধ্যে অনিকের রুমটা গোছাতেই সবচেয়ে বেশি সময় লেগেছে। কারণ গোটা বাসায় ওই রুমটাই সবচেয়ে এলোমেলো থাকে। অনিকের অব্যবহৃত খেলনা, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট কিছু আলমারিতে, কিছু খাটের তলায় ঢুকিয়ে দিয়ে বড় বিছানা চাদর ঝুলিয়ে ঢেকে দিয়েছে।
স্কুলের বন্ধুরা এবং অনিকের আত্মীয়স্বজন মিলে প্রায় পঁচিশ-ত্রিশজনের আয়োজন। খাবার দাবার বাইরের ক্যাটারিং থেকে অর্ডার দিয়ে আনা হয়েছে। প্রতি বছর অনিকের জন্মদিন বাবদ বাবা একটা মোটা অঙ্কের বাজেট পাঠান। তাই দিয়ে মা রানীর মতো সেজেগুজে থেকে সব সামাল দিয়ে দেয়।
অনিকের বন্ধুদের মধ্যে দুই ভাগ হয়ে গেছে। এক ভাগ খানাপিনার পালা শেষ হলেই কেটে পড়বে, যতো রাতই হোক। তাদের নাকি নিজের বিছানা ছাড়া ঘুম হয় না। আরেক দল রাতে অনিকের বাসায় থাকবে। আড্ডা দেবে এবং মূল উদ্দেশ্যে অনিকের বাবার পাঠানো সেই হলোগ্রাফিক ইমেজ দেখা। ওটা রাত বেশি না হলে দেখে কোনো মজা নেই। (চলবে)