জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা তাদের ইতিহাসের একটি অন্ধকার অধ্যায় সহ্য করছে। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব এমন মন্তব্য করেছেন। বিবৃতিতে তিনি গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ও হামাসের হাতে বন্দীদের সবার মুক্তির জন্য তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গতকাল ২৯ নভেম্বর ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের আন্তর্জাতিক দিবস। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেয়া বিবৃতিতে ৭ অক্টোবরের হামলার নিন্দা জানিয়ে গুতেরেস বলেন, ‘এটি ফিলিস্তিনি জনগণের সম্মিলিত শাস্তিকে ন্যায্যতা দিতে পারে না।’ তিনি গাজায় ‘জীবনরক্ষা সামগ্রীর অবাধ প্রবেশাধিকার, সব বন্দীর মুক্তি, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
ফিলিস্তিনি জনগণ এবং বিশ্বব্যাপী তাদের সমর্থকরা গতকাল বুধবার ফিলিস্তিনি জনগণের সাথে এই আন্তর্জাতিক সংহতি দিবস উদযাপন করেছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবে ফিলিস্তিনকে ‘আরব’ ও ‘ইহুদি’ রাষ্ট্রে বিভক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। পরে ১৯৭৭ সালে জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদ প্রতি বছর দিবসটি উদযাপনের আহ্বান জানায়। এর ১০ বছর পরে ১৯৮৭ সালে একই তারিখে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এর পর থেকে এ দিনটি আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
এ বছর গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির অব্যাহত আহ্বানের মধ্যে দিবসটি এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানা আয়োজনে দিবসটি উদযাপন করেছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে দর্শনার্থীদের লবিতে ‘প্যালেস্টাইন-এ ল্যান্ড উইথ এ ল্যান্ড’ নামক একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। জেনেভায় স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় জাতিসঙ্ঘের প্যালেস ডেস নেশনসে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ‘দ্য গাজা মনোলোগ’ শীর্ষক একটি অনলাইন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়; অকল্যান্ড ও লন্ডনেও পাবলিক পারফরম্যান্স অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের মহাসচিব ফিকিলে এমবালুলাসহ অন্যদের অংশগ্রহণে একটি পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।