বলছি প্যাপিরাস গাছের কথা । এই গাছের কা- থেকে প্রাচীন মিসরীয়রা এক ধরনের কাগজ উৎপাদন করত। তারা এই গাছের কাণ্ডকে লম্বা লম্বা পাতের মতো করে কেটে নিত। প্যাপিরাস গাছের একেবারে মাঝখানের পাতটি সবচেয়ে বেশি মূল্যমানের। এসব পাতকে পাশাপাশি এমনভাবে শুইয়ে দেয়া হতো যে, এদের একটির কিনার অপরটির কিনারের ওপর খানিকটা লেপটে থাকত। আরো কিছু পাত এদের সাথে আড়াআড়ি করে রাখা হতো। এরপর এদের নীল নদের পানি ও গমের ময়দার আঠায় জুড়ে দেয়া হতো। এরপর শিটগুলো হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে চ্যাপ্টা করে রোদে শুকানো হতো।
এই গাছটি ১-৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। প্যাপিরাস গাছের কা- অত্যন্ত নরম এবং গোড়ার দিকে মানুষের হাতের কবজির মতো মোটা। চূড়ার দিকে কা-টি ঝুঁকে থাকে। এ গাছের ডাল দেখতে অনেকটা কোঁকড়ানো খসখসে চুলের মতো। পাতা ছোট, মূল শক্ত-সবল।
মিসরীয়রা প্যাপিরাস গাছের সরু-লম্বা ডাঁটি দিয়ে মাদুর ও নৌকার পাল বানাত। কা-ের ভেতরে অবস্থিত মজ্জা শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করত।
গরিব মানুষ প্যাপিরাস গাছের মজ্জা সিদ্ধ করে ক্ষুধা নিবারণ করত। ইথিওপিয়া ও নীল নদের উজানে এখনো এই গাছ দেখা যায়। আগেকার দিনে নীল নদের ব-দ্বীপ এলাকায় যত ব্যাপকভাবে এই গাছের চাষ হতো, এখন আর তত চাষ হয় না।