২০০৯ সাল দক্ষিণ এশিয়ার জন্য হতে পারে সবচেয়ে আলোচিত বছর। নতুন এই বছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফোকাস এশিয়ায় চলে আসার কথা আগেই বলা হয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে নতুন এ বছরটির ফোকাসে পরিণত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া, যার মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান থেকে ভারত-বাংলাদেশ হয়ে মিয়ানমার পর্যন্ত ৯টি দেশ। এ অঞ্চলের অন্তত ছয়টি দেশে কোনো-না-কোনো পটপরিবর্তনের নির্বাচন ২০১৯ সালে আছে অথবা সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বড় রকমের রেস রয়ে গেছে। আর বিশ্বশক্তিগুলো তাদের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হিসেবে এ অঞ্চলকে বেছে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
ভূরাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যগত সব দিক দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাওয়া যায়। এর রয়েছে চ্যালেঞ্জিং জনসংখ্যা, ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, বিতর্কমূলক ইস্যু এবং দুর্বলভাবে চিহ্নিত সীমানা। হিমালয় পর্বতমালা দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর সীমানা গঠন করেছে, যার দু’টি প্রধান নদী সিন্ধু ও গঙ্গা এ অঞ্চলের বৃহৎ জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সহায়তা করছে। ভারত এ অঞ্চলের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ এবং বিশ্বের দ্রুত ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির একটি। কিন্তু এর প্রতিবেশী পাকিস্তান একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং ক্রমবর্ধমান ভোক্তাবাজার। এ দুই প্রতিবেশী দেশের চিরন্তন প্রতিদ্বন্দ্বিতা দক্ষিণ এশিয়াকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক পরমাণু ফ্লাশ পয়েন্টে পরিণত করেছে বলে মনে করা হয়।
ভারতের নির্বাচন ও যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ভারসাম্য
২০১৯ সাল ভারতের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বছর। এই বছর মে মাসে দেশটির লোকসভা ও অনেকগুলো রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। দেশটির পুনরুজ্জীবিত বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৯ সালে একটি কঠিন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে পারেন। এক সময় ধারণা করা হয়েছিল, বেশ সহজেই দ্বিতীয় দফা প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু সর্বশেষ পাঁচটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের মধ্যে সবক’টিতে বিজেপির হারে মনে হয় দলটি কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়বে পরের নির্বাচনে। বিশেষত এর মধ্যে হিন্দি বলয়ের যে তিনটি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় ছিল, তার সবক’টিতে বিজেপির হার প্রমাণ করে যে আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে মোদি-অমিত শাহের কৌশলে ফল নাও আসতে পারে। বেশ কয়েকটি কারণ ভারতের এবারের নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে।
প্রথমত, নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির বড় ইমেজ তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতাদের মধ্যে বিজেপির প্রধানমন্ত্রীর কোনো বাস্তব বিকল্প নেই বলে যে প্রচারণা চালানো হচ্ছিল, সাম্প্রতিক রাজ্য বিধানসভার (রাজস্থান, মিজোরাম, মধ্যপ্রদেশ, উড়িশ্যা, ছত্তিশগড়) নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের বিপর্যয় সেটিতে বড়ভাবে আঘাত করেছে। ২০১৪ সালে মোদি ইমেজ যে ভূমিকা রেখেছিল, সেটি সম্ভবত এবার আর থাকবে না।
দ্বিতীয়ত, বিজেপি ‘আচ্ছে দিন’ তথা জনগণের অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের যে সেøাগান দিয়ে আগের বার নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়েছিল; এবার সেটি নেতিবাচক হিসেবে কাজ করবে। উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের কথা বলা হলেও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে তার প্রভাব বেশ কম। দেশটিতে বিশেষ কিছু করপোরেট গ্রুপের বিশেষ বিকাশ ঘটেছে সত্য, কিন্তু বৃহত্তর কৃষক ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। কৃষকদের অব্যাহত আন্দোলন বিজেপির জন্য পরের নির্বাচনে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। অধিকন্তু উচ্চমানের নোট বাতিলের মতো কিছু পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের জীবনযাপন মান ও কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে এসেছে।
তৃতীয়ত, দিনবদলের স্লোগান কোনো কাজ না করায় উগ্র জাতীয়তাবাদী হিন্দুত্বের স্লোগান বিজেপি কৌশল হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন চেষ্টা করা হচ্ছে রামমন্দির নির্মাণের বিষয়টিকে সামনে এনে অর্থনৈতিক পরিবর্তনে ব্যর্থতা আড়াল করতে। কিন্তু এ ইস্যুটি অতীতের মতো ফল দেবে বলে মনে হচ্ছে না, বরং দেশকে যেভাবে হিন্দু রাষ্ট্র ঘোষণার বিপজ্জনক উগ্র রাজনৈতিক মতবাদের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং গো-রক্ষার নামে সংখ্যালঘুদের পিটিয়ে মারা হচ্ছে তাতে বিভক্ত সংখ্যালঘুরা পরের ভোটে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপি ভারতের ঐতিহ্যবাহী নগরীগুলোর হিন্দু নামকরণের মাধ্যমেও হিন্দুত্বকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। এ প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য কোনো ফল আসবে বলে মনে হচ্ছে না।
চতুর্থত, বিজেপি ২০১৪ সালে জাতীয় ও আঞ্চলিকভাবে বিভক্ত বিরোধী দলের মোকাবেলা করে সাফল্য লাভ করেছিল। ক্ষমতায় যাওয়ার পর নেয়া তাদের নানা কৌশল বিরোধী দলগুলোকে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। তাদের মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা বেশ সামনে এগিয়েছে। এটাকে ভাঙতে না পারলে বিজেপির নির্বাচনী সাফল্য পাওয়া অসম্ভবের মতো।
ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলো মোদি ও তার ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত করার প্রচেষ্টায় ঐক্যবদ্ধ করার দিকে মনোযোগ দেবে। মোদি রাজ্য ও সংসদীয় নির্বাচনে কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে, কিন্তু ২০১৪ সালের মতো বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে বিজেপি নিশ্চিতভাবেই ব্যর্থ হবে। কারণ, অর্থনৈতিক ও চাকরির সৃষ্টি সমস্যার কারণে ভোটারদের মধ্যে হতাশা বেড়েছে। নির্বাচনের আগে বিজেপি হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিষয়গুলোতে জোর দেবে। অন্য দিকে, ডলার শক্তিশালী মানে থাকায় রুপি দুর্বল থাকবে আর মুদ্রাস্ফীতির হুমকি ক্রমবর্ধমান রূপ নেবে। ভারতীয় মুদ্রাস্ফীতি আর্থিক কঠোর নীতি বজায় রাখতে বাধ্য করবে, যা সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে বিতর্কের মূল বিষয় হবে।
এসব বাস্তবতার পর বিজেপি তার কৌশলে নতুন কিছু আনতে পারলে সেটিই হতে পারে সাফল্যের চাবিকাঠি। এ ক্ষেত্রে বিরোধী ভোটে বিভক্তি আনা হতে পারে বিজেপির কার্যকর কৌশল। বিজেপির জন্য অভ্যন্তরীণ ইস্যু ছাড়াও বাইরের কিছু ইস্যু বিবেচ্য হিসেবে কাজ করতে পারে। আর এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভূরাজনৈতিক কৌশল, যার প্রভাব অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে পারে।
ভূরাজনৈতিক ঘটনা দ্বিধারী তরবারির মতো। এটিকে বন্ধুত্ব জোরদার করা কিংবা শত্রুকে মিত্র বানানোর সুযোগ বিবেচনা করা হয়। আবার এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে তা ঐতিহাসিক অংশীদারকেও দূরে ঠেলে দিতে পারে। পরাশক্তিগুলোর এবং ভারতের মতো হবু পরাশক্তিগুলোর সব কৌশলগত নজর প্রতিবেশীদের শান্ত রাখা। তবে এ দিক থেকে ভারতের রেকর্ড উজ্জ্বল নয়। ভুটানকে বাদ দিলে আশপাশের কোনো দেশের সাথেই ভারতের সম্পর্ক ঝামেলাপূর্ণ কিংবা দ্বিধাপূর্ণ। এমনকি নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতি গ্রহণ করা সত্ত্বেও ভারত এ দিক দিয়ে সফল হতে পারেনি।
বাণিজ্য ও অবরোধ নিয়ে বিতর্ক দিল্লির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এই ইস্যুতে বেশ মতানৈক্য সত্ত্বেও ভারত সতর্কভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে অগ্রসর হয়েছে। চীনের সাথে উভয়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মার্কিন-ভারতীয় অংশীদারিত্বকে পারস্পরিক উপকারী করে তোলে। তবে একই সাথে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে (অন্যের সাথে সম্পর্ক তৈরির অধিকার) সর্বাধিক করার জন্য, নয়াদিল্লি রাশিয়ার সাথে ভারতের সম্পর্ক রক্ষা করবে। রুশ অস্ত্রের ওপর এখনো দিল্লির বিশেষ নির্ভরতা রয়েছে। ভারতের নিজস্ব উৎপাদনকে সমর্থন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মুখ্য ক্ষেত্রগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহকারীদের কাছ থেকে প্রযুক্তি স্থানান্তরকে জোর দেবেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে কমিয়ে দিতে এক ধরনের প্রতি চাপ প্রয়োগ করবেন। বিশেষ করে দুগ্ধজাত পণ্য ও চিকিৎসা ডিভাইস খাতে এবং তার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রচারাভিযানের অধীনে চাকরি সুরক্ষার জন্য ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে তিনি ভারতের সেবা খাতের জন্য বিস্তৃত এক্সেস চাইবেন। এ ক্ষেত্রে সাফল্য মোদির নির্বাচনে ইতিবাচক হতে পারে।
২০১৯ সালে ভারত ও চীন উভয়ে উত্তেজনার চাপকে একটি পর্যায়ে বজায় রাখবে। ভারতের বৈদেশিক সম্পর্কের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়াশীল ধরনের শক্তি হিসেবে একটি পরিচিতি রয়েছে। তবে নির্বাচনকে সামনে রেখে মোদির ফোকাস হতে পারে বেইজিংকে উত্তেজিত না করা। কিন্তু তার অবস্থান পাকিস্তান বা চীনের সাথে তাদের বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে নমনীয় করবে না। এর অর্থ এই যে, কোনো দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে দোকলাম ধরনের অবস্থান নিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলবে না। ২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনের প্রাথমিক ফোকাস থাকা অবধি, বেইজিং ভারতসহ তার প্রান্তিক শক্তির সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে।
কৌশলগত পর্যায়ে চীনের সাথে ভারতের উত্তেজনা থাকলেও বেসিং অধিকার, অবকাঠামো প্রকল্প এবং প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের জন্য বেইজিংয়ের কৌশলগত প্রতিযোগিতা ও সমঝোতা উভয়ই চলবে ভারত মহাসাগরজুড়ে। ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য ভারত শুধু জাপানের সাথে নয়, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার সাথে দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে জাপানের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দেবে। ভুটানের নতুন সরকার, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশ, চীনের বেল্ট ও রোড ইনিশিয়েটিভে স্বাক্ষর করাসহ অন্য অনেক ক্ষেত্রেই ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক পুনর্নবীকরণ করতে পারে।
সবশেষে নির্বাচনের পর পর্যন্ত ভারত আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব (আরসিইপি) নিয়ে একটি চুক্তি শেষ করতে বিলম্ব করবে। আরএসইপি দেশগুলোর ১৬টির মধ্যে ১০টিতে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে ভারতের। চীনের সাথে রয়েছে সবচেয়ে বড় অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি। তাই নয়াদিল্লির কোনো চুক্তিতে বিশেষ ছাড় ছাড়া স্বীকৃত স্থানীয় শিল্পের ওপর হুমকি সৃষ্টি করবে। চীনা আমদানির প্রসার থেকে তার শিল্পকে রক্ষা করতে পারে, এমন বিষয়ে ছাড় থাকার ওপর এতে দিল্লির স্বাক্ষর নির্ভর করবে। ভারত তার তথ্যপ্রযুক্তির জন্য সম্প্রসারিত বাজার এক্সেস চাইবে।
বাংলাদেশে নির্বাচনোত্তর চ্যালেঞ্জ
২০১৯ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি চ্যালেঞ্জের। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এ নির্বাচন নিয়ে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিকভাবে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে নতুন মেয়াদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে হবে শেখ হাসিনাকে। এ ক্ষেত্রে তিনি প্রতিবেশী ভারতের সর্বাত্মক সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে নতুন নির্বাচন ও সরকারকে দিল্লি স্বীকৃতি দিয়েছে। অভিনন্দন জানিয়েছে নেপাল আর ওআইসি। নেপালের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে সম্ভবত চীনের নতুন সরকারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে। ওআইসির অভিনন্দন মানে হলো সৌদি আরবের ইতিবাচক মনোভাব। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য আর পাশ্চাত্যের অন্যান্য দেশ নতুন নির্বাচন ও সরকারকে কিভাবে নেয়, সেটিই হলো একটি বড় প্রশ্ন।
এক ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে সরকার গঠনের পর শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিকভাবে বৈরী অবস্থায় পড়তে হবে। ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর সব দেশ নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে সম্মত হয়েছিল। এবার অন্তত ততটুকু সাড়া পেলে শেখ হাসিনার সরকার বড় চ্যালেঞ্জে পড়বে না। এর পরিবর্তে অবরোধের মতো যেসব আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল, সেটি বাস্তব হলে নতুন সরকারকে বড় ধরনের বৈধতা ও অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়তে হবে। এ ধরনের অবস্থা দেখা দিলে শুধু ভারত বা রাশিয়া সরকারকে উদ্ধার করতে পারবে না। এ জন্য চীনা সহায়তার প্রয়োজন হবে বিশেষভাবে। কিন্তু নির্বাচনোত্তর কিছু প্রত্যাশা ভারতের এমন রয়েছে, যা কোনোভাবেই চীন মেনে নেয়ার মতো নয়। বিশেষত ভারতের সাথে যে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে, সেটি করা হলে বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বা কার্যকর সার্বভৌমত্ব থাকবে না বলে বেইজিং মনে করে। এ ছাড়া, আরো কিছু কৌশলের বিষয় রয়েছে চীন ও ভারতের সাথে সাংঘর্ষিক।
এ অবস্থায় দুই দেশকে একই সাথে সহায়ক হিসেবে পাওয়া নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এ ছাড়া, বাংলাদেশ বড় ধরনের আর্থিক সঙ্কটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়। ব্যাংকগুলোতে তারল্যের ব্যাপক অভাব রয়েছে। বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের হিসাব ও বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে অনেক বড় ফারাক। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে একটি সঙ্কট আসন্ন বলে মনে করা হয়। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ইতিবাচক না হলে এ সঙ্কট মোকাবেলা করা কঠিন। এর বাইরে কর্তৃত্ববাদিতার সামনে রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। এখান থেকেও সঙ্কটের শুরু হতে পারে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয় সামনে চলে আসতে পারে। এবারের নির্বাচনে ভারতের ভূমিকা নিয়ে নির্বাচনের আগেই অনেক লেখালেখি হয়েছে। ভারত এক সময় বাংলাদেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ গড়ে তুলেছিল। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তার একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। ফলে পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই এর একটি প্রভাব থাকবে।
নির্বাচনের দুই দিন আগে ভারতীয় সাংবাদিক চন্দন নন্দী বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিবেদন লিখেছেন। তার পিতা এক সময় এখানকার ভারতীয় দূতাবাসের উচ্চ পদে কর্মরত থাকার সুবাদে তিনি এখানকার অনেক চালচিত্রের সাথে পরিচিত। তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকায় ২০০০-এর দশকের শেষ দিকে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক এক ভারতীয় কূটনীতিবিদ পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এবার একটি (ভারতের) গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামো থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমানকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করা। ওই সাবেক হাইকমিশনার বলেন, আমরা কেবল অ-মৌলবাদীদের সাথে কাজ করব। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী (যদিও তারা আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে গেছে) বিকল্প নয়। এই সময় তাদের প্রতি ভারত সমর্থন দেবে, এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়নি। ফলে একমাত্র বিকল্প হলো আওয়ামী লীগের শাসন অব্যাহত থাকতে দেয়া।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে সমর্থন প্রদানের একটি কারণ, যদিও তা সাধারণ সব যুক্তির বিরুদ্ধেই যায়, তা হলো চীনকে দূরে রাখা- এই মত সমর্থন করে ওই সাবেক দূত বলেন : ‘সম্পদ ঢালার দিক থেকে বেইজিংয়ের সাথে নয়াদিল্লি প্রতিযোগিতায় পারবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের মধ্যে তার একটি প্রতিষেধক আছে। অবশ্য প্রধান উদ্দেশ্য হলো খালেদা ও তারেকবিহীন নতুন বিএনপির জন্য ধীরে ধীরে রাস্তা খোলা। এটি একটি পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পনা। এখন তারা কোথায় আছে তা কি দেখতে পাচ্ছেন না? আর এই নির্বাচনের পর তারা আরো বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে যাবে। কারাবন্দী খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ বলে জানা গেছে। আর তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন। হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর তার দেশে ফেরার আশা ক্ষীণ হয়ে পড়বে।’
চন্দন নন্দীর এই লেখার পর নির্বাচনের দিনের ঘটনাবলি এবং নির্বাচনের ফলাফল সামনে রাখা হলে বাংলাদেশের একটি অনাগত দৃশ্যপট অনেকের চোখে ভাসতে পারে। সেই দৃশ্যপটে একক নিয়ামক ভারত না-ও হতে পারে। দেশটির জন্য প্রকৃত চ্যালেঞ্জ উত্থিত হতে পারে তখনই। আর এর সাথে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কার্যকর সার্বভৌমত্বেরও একটি সম্পর্ক রয়েছে।
পাকিস্তানের বাণিজ্য ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান শ্লথ প্রবৃদ্ধি
পাকিস্তানের জন্য ২০১৯ সাল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের ঐতিহ্যগত দুই রাজনৈতিক শক্তি মুসলিম লীগ ও পিপিপিকে পেছনে ফেলে ইমরান খান ও তার দল পিটিআই দেশটির ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অগ্রসর হতে হচ্ছে ইমরান খানকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে হাজির হয়েছে অর্থনৈতিক সঙ্কটের বিষয়টি। প্রধানমন্ত্রী ইমরান পাকিস্তানের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কঠোর পরিশ্রম করলেও নানা কারণে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তার প্রশাসনের অগ্রগতি প্রদর্শনের জন্য দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপগুলোতে মনোযোগ দেয়ার জন্য ইমরানকে বাধ্য করবে। তিনি বেইজিংকে চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে কৃষি প্রকল্পে জোর দেয়া এবং দেশে বিনিয়োগের জন্য তৃতীয় পক্ষের দেশগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন। এ নিয়ে চীনের সাথে একটি উভয়ের স্বার্থ নিশ্চিত করার মতো সমঝোতায় আসতে হবে। একই সাথে আইএমএফের চলমান ঋণ আলোচনায় একটি গ্রহণযোগ্য অনুসিদ্ধান্তে তাকে আসতে হবে। এর ওপর বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে এখন যে সঙ্কটাবস্থার মধ্যে দেশটি রয়েছে তার নিষ্পত্তি নির্ভর করবে। ইমরান সৌদি আরব ও চীনের সহায়তা নিয়ে এই সঙ্কট মোকাবেলার চেষ্টা করেছেন। এ ক্ষেত্রে কিছু সাড়া তিনি পেলেও তা সঙ্কট উত্তরণের জন্য যথেষ্ট হবে না। এখন আইএমএফের উদ্ধার তহবিল পেতে শর্ত কতটা নমনীয় করা যায়, সেটি ইমরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। জানুয়ারিতে এই আলোচনা শেষ হওয়ার কথা।
রাজনৈতিক ফ্রন্টে ইমরান খান সেনাবাহিনীর সাথে বিরোধ এড়িয়ে চলবেন। অর্থাৎ বিদেশনীতির ব্যাপারে সেনাপ্রতিষ্ঠানের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর তার দৃঢ় বিশ্বাস থাকবে। তিনি জানেন, প্রধানমন্ত্রী যদি সামরিক বাহিনীর ওপর তার কর্তৃত্ব দাবি করার চেষ্টা করেন, তবে দেশ পরিচালনায় তার কর্তৃত্ব ক্ষুণœ হতে পারে। এমনকি এ ধরনের বিরোধ তার সংসদীয় প্রাধান্যকে ক্ষুণ্ন করতে পারে, তার জোট সরকারের পতন ঘটাতে পারে অথবা দুর্নীতির মামলা হঠাৎ তার প্রশাসনের সদস্যদের বিরুদ্ধে উঠতে পারে। এ কারণে ইমরান খান সঙ্ঘাতের পরিবর্তে ভারসাম্যমূলক অবস্থান বজায় রাখবেন।
২০১৯ সালের মে মাসে ভারতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের নির্বাচনোত্তর সরকারের মধ্যে ২০১৬ থেকে স্থগিত আলোচনা আবার শুরু করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এমনকি এই আলোচনা কাশ্মিরে তাদের বিরোধের সমাধান না করলে আফগানিস্তানের সাথে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে পাকিস্তান আরো বেশি কার্যকরভাবে ভারতের সাথে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আনতে চাইবে। আর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খানের সরকার নয়াদিল্লির সাথে বাণিজ্য আলোচনার সম্ভাবনাকে যাচাই করে দেখবে।
আফগানিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতাবস্থা
একেবারে সীমিত সাফল্য সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে তার বর্তমান কৌশল বজায় রাখবে। তালেবানদের যুদ্ধক্ষেত্রের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য সামরিক ও কূটনৈতিক শক্তির মিশ্রণ বজায় রাখবে এবং পাকিস্তানকে তালেবানের সাথে আলোচনার জন্য আহ্বান জানাবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সত্ত্বেও তার আঞ্চলিক পররাষ্ট্র নীতির অংশ হিসেবে রাশিয়া ও ইরানের সাথে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের দিকে পাকিস্তানের চলাকে অব্যাহত রাখবে। ইসলামাবাদ, মস্কো ও তেহরান ইসলামিক স্টেটের হুমকি তাদের নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করতে ব্যবহার করবে।
আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আগামী বছরের মধ্যে ব্যাপকভাবে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম বলে মনে হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ন্যূনতম চাপের কৌশলগুলো (যেমন- তহবিল হ্রাস, পাকিস্তানি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ বাতিল করা এবং প্রতিরক্ষা বিক্রয়কে নিয়ন্ত্রণ করা) থেকে সরে আসতে পারে। পাকিস্তানের অ-ন্যাটো প্রধান সহযোগীর অবস্থান বাতিল করার মতো কঠোর চাপ প্রয়োগ করতে পারে ওয়াশিংটন। আলোচনার ক্ষেত্রে তালেবান আরো বেশি আগ্রহ প্রকাশ করবে, তবে ন্যাটোর প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিলেই কেবল আলোচনা শুরু হতে পারে। এ ক্ষেত্রে এ বিষয়টি সামনে চলে আসবে যে, আফগান সেনাবাহিনী নিজেরা দেশটির নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
আফগানিস্তানের সঙ্কটের নিষ্পত্তির জন্য চীন রাশিয়া ইরান পাকিস্তন চতুর্পক্ষীয় উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়ার পরও সেখান থেকে ফিরে এসেছেন। সব পক্ষের মধ্যে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা ছাড়া আফগান সঙ্কটের অবসান বেশ কঠিন। ২০১৯ সালে এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি সাধিত হতে পারে।
ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা নেপালের বড় চ্যালেঞ্জ
নেপালের কমিউনিস্ট সরকার ২০১৯ সালেও চীনা আনুকূল্য ভোগ করবে। চীনের সাথে সম্পর্ক দেশটিকে ভারতের ওপর একক নির্ভরতা থেকে মুক্ত করবে। তবে দিল্লি কোনোভাবেই এই নিকট প্রতিবেশী দেশে চীনা প্রভাব বাড়তে দিতে রাজি নয়। পঞ্চাশের দশকের গোড়ার দিকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত মৈত্রী চুক্তিটির কিছু অনুচ্ছেদ পাল্টানোর জন্য কাঠমান্ডুর প্রস্তাবে দিল্লির সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরও নেপালের নতুন সরকার ভারতের সাথে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে চায়। দিল্লি এই সম্পর্ককে কিছুটা অধীনতা বা অনুগতমূলক করতে চায় বলে নেপালকে সমস্যায় পড়তে হবে।
নেপালের নতুন সরকারের সামনে চীন-ভারত সম্পর্কের ভারসাম্য ছাড়াও অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে চীনা বিনিয়োগ তাদের কাজে লাগবে। তবে বিনিয়োগ চুক্তিগুলোতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। হিমালয়ান টানেল ও চীনের সাথে স্থলসংযোগ সড়কগুলো নেপাল অর্থনীতিকে অদূর ভবিষ্যতে পাল্টে দিতে পারে।
শ্রীলঙ্কায় নির্বাচন অনেক কিছু পাল্টাতে পারে
শ্রীলঙ্কায় যে রাজনৈতিক গোলযোগ চলছে, তা বেশ কঠিন অবস্থার সৃষ্টি করেছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহেকে বরখাস্ত করে চীনবান্ধব মহিন্দ রাজাপাকসেকে ওই পদে বসিয়েছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আদেশে বিক্রমাসিংহে আবার দায়িত্ব ফিরে পান। তবে সিরিসেনা এখন বিক্রমাসিংহের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার ক্ষমতার যে দ্বন্দ্ব সেটির ইতি সহজে ঘটার মতো নয়। এর সাথে দু’জনের রাজনৈতিক ভাগ্য জড়িত। ২০১৯ সালের শেষ দিকে বা পরের বছরের শুরুতে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে আগের বারের ইকুয়েশন থাকবে না। সিরিসেনা এবার প্রার্থী হবেন শ্রীলঙ্কান ফ্রিডম পার্টির। এই দলটি শেষ পর্যন্ত রাজাপাকসের নতুন দলের সাথে একীভূত হতে পারে। ফলে পরের নির্বাচনে বিক্রমাসিংহের সাথে তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সরাসরি। এই নির্বাচনের আগে প্রাদেশিক নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিতে পারেন প্রেসিডেন্ট। নির্বাচন হলে তাতে বিক্রমাসিংহের চেয়ে রাজাপাকসে বেশি ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর পর পর্যায়ক্রমে প্রেসিডেন্ট এবং ২০২০ সালে সংসদ নির্বাচন হতে পারে।
শ্রীলঙ্কার নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেয়া। রাজনৈতিক সঙ্কটের কারণে এই সঙ্কট আরো জোরালো হয়েছে। বিক্রমাসিংহে এটি মোকাবেলা করতে চাইছেন; কিন্তু সহজ কোনো সমাধান তার সামনে নেই।
মালদ্বীপ ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে
মালদ্বীপে প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ ইয়ামিনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তুলনামূলক গণতন্ত্রমনা মোহাম্মদ সোলিহ। এতে দিল্লি খুশি হয়েছে। এর মাধ্যমে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা মেরিটাইম সিল্ক রুটে যাত্রায় বড় ধরনের বিপর্যয় বলে গণ্য হয়েছে। এটি ভারতের জন্য ভালো খবর। তবে চীন আগের সরকারের সময় দেশটিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে নির্ভরতা তৈরি করেছে তা থেকে মালদ্বীপের সরকারের পক্ষে একবারে ইউটার্ন করা কঠিন। শ্রীলঙ্কায় চীনা প্রভাব অক্ষুণœ রাখতে যে নীতি বেইজিং নিয়েছে, একই ধরনের নীতি নিতে পারে মালদ্বীপে। সোলিহর সরকার ইয়ামিনের একতরফা নীতির বিপরীতে ভারত বা পাশ্চাত্যের স্বার্থ রক্ষা করেও চীনের সাথে এক ধরনের ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে।
