ক্রীড়া প্রতিবেদক
দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এক প্রতিপক্ষ নিয়েই ভাবতে হয়। আগের মতো ত্রিদেশীয় সিরিজ এখন এত হয় না। একাধিক দল নিয়ে ভাবার মঞ্চ তো শুধু বিশ্বকাপ আর এশিয়া কাপ। এশিয়ান গেমসে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিলেও টাইগারদের অনুভূত হচ্ছে বিশ্বকাপের মতো হাওয়া। এশিয়ান গেমসে উড়াল দেয়ার আগে বাংলাদেশ টি-২০ দলের অধিনায়ক লিটন দাস বলেন, ‘যেকোনো টুর্নামেন্টে প্র্যাকটিসের চেয়েও বড় জিনিস কে আমার প্রতিপক্ষ হবে। এই ইভেন্ট এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের মতো অনুভূতি দিচ্ছে।’
কারণ ব্যাখ্যা করে তার ভাষ্য, ‘কার সাথে কার খেলা হবে জানেন না। আমরা সব দলের জন্যই প্রস্তুত। নিজেদের যতটা প্রস্তুতি নেয়া দরকার সেটি করেছি। বেশির ভাগ দলের সাথেই আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা আছে। চেষ্টা করব ওই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর।’
ক্রিকেটে লিটন দাসের অভিজ্ঞতার কোনো কমতি নেই! আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ২০১৫ সালে। এক যুগ হতে চলল জাতীয় দলের জার্সিতে। কিন্তু এশিয়ান গেমসের গল্পটা তার জন্য একেবারেই নতুন! তাই জাপানের বিমানে ওঠার আগে তার চোখে শুধু নতুন একটি টুর্নামেন্ট নয়, এমন এক পদকের স্বপ্ন- যে পদকের নাম স্বর্ণ!
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম অধ্যায় শেষ হয়েছে হতাশায়। মেয়েদের ব্রোঞ্জ জয়ের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হারের পর এবার দেশের ক্রিকেটের দৃষ্টি পুরুষ দলের দিকে। আজ থেকে শুরু হচ্ছে পুরুষদের ক্রিকেট। আর সেই মিশনে গত রাতেই জাপানের পথে উড়াল দিয়েছে লিটন দাসের দল।
যাত্রার আগে মিরপুরে অধিনায়কের কণ্ঠে অবশ্য হতাশার কোনো ছাপ নেই। বরং প্রথমবার এশিয়ান গেমসে খেলতে যাওয়ার রোমাঞ্চের সাথে মিশে আছে বড় স্বপ্ন। লিটন বলেন, ‘এই প্রথম আমি এশিয়ান গেমসে খেলব। জাতীয় দলকে তো সার্ভ করছি, এ রকম মঞ্চেও খেলা। এটাও বড় জিনিস। সবসময় আপনি ট্রফি জিতবেন, এমনও নয়। এখানে জিতলে স্বর্ণের বিষয় থাকে। এটি একটা বড় স্বপ্ন। সব খেলোয়াড়ই রোমাঞ্চিত। দেখুন, অন্য সিরিজ খেলি ট্রফি জেতার জন্য। গেমসে মজা হলো গোল্ড মেডেল জেতা যায়। আমাদের দলের সবার টার্গেট সেরা হওয়া।’
স্বপ্নের সাথে প্রস্তুতিতেও ঘাটতি রাখতে চাননি তারা। জাপানের কন্ডিশনে যাওয়ার আগে মিরপুরে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। সেই প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট লিটনও, ‘প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। দুইটা প্র্যাকটিস ম্যাচ খেললাম। টার্গেট একটাই, ফাইনাল খেলা, ফাইনাল জেতা।’
এবার পুরুষদের ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছে ১০ দল। আফগানিস্তান, জাপান ও নেপাল রয়েছে- ‘এ’ গ্রুপে; ‘বি’ গ্রুপে হংকং, মালয়েশিয়া ও ওমান। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা র‌্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা পেয়েছে। গ্রুপ পর্বের দুই শীর্ষ দল করে যোগ দেবে শেষ আটে। বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল ২৯ সেপ্টেম্বর। ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে হবে সেই ম্যাচ। জিততে পারলে ১ অক্টোবর সেমিফাইনাল, আর ৩ অক্টোবর ফাইনাল। সব ম্যাচই হবে নিসিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেটের সোনালি স্মৃতি অবশ্য বেশ পুরনো। ২০১০ সালে গুয়াংজুতে আফগানিস্তানকে হারিয়ে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। সর্বশেষ হাংঝু আসরে অবশ্য ব্রোঞ্জেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এবার সেই ব্রোঞ্জকে সোনায় বদলানোর লক্ষ্য নিয়েই যাচ্ছে লিটনের দল।
টি-২০ দল অবশ্য অনেক দিন পর একসাথে হলো। ক্যাম্প আর প্রস্তুতি ম্যাচে প্রস্তুতি জম্পেশই হয়েছে, আশাবাদ লিটনের, ‘খেলোয়াড়রা খেলার মধ্যেই আছে। এই বছর তো ওয়ানডে ও টেস্ট বেশি। টি-২০ কম খেলেছে। তবে অনেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে বেড়াচ্ছে। আমাদের সুযোগই কম ছিল একসাথে হওয়ার। এই ক্যাম্প ও প্র্যাকটিস ম্যাচ বন্ডিংয়ে সহায়তা করেছে। এশিয়ান গেমসে চেষ্টা করব ভালো কিছু করার। ভালো খেলা ছাড়া তো উপায় নেই- এটিই মূল লক্ষ্য।’
এশিয়ান গেমস মানে নানা ধরনের ক্রীড়া ইভেন্টের সমাহার। ক্রিকেট খেলার ফাঁকে সুযোগ হলে অন্য খেলাও দেখার ইচ্ছা আছে তার। লিটন বলেন, ‘জানি না ওই সুযোগ পাবো কি না। যেহেতু বিকেএসপির ছাত্র ছিলাম, ক্রিকেটের সাথে অনেক স্পোর্টস দেখার সুযোগ ছিল। যদি ও রকম সুযোগ পাই, তাড়া না থাকে, অন্য খেলা দেখব। অন্য স্পোর্টস দেখলে শিক্ষণীয় অনেক কিছু আছে। অনেক দেশের মানুষ ওখানে আছে। যেকোনো স্পোর্টসম্যানের সাথে কথা বলতে পারবেন। অনেক কিছু শেখার সুযোগ থাকবে।’
এর আগে ২০১৪ সালে ইনচন এশিয়ান গেমসে দল বেঁধে কাবাডি খেলা দেখতে গিয়েছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট টিম। পৃথক এক প্রশ্নের জবাবে লিটন আরো বলেন, ‘সুইমিং বা অ্যাথলেটিক দেখতাম। উসাইন বোল্ট। এগুলো দেখতে মজা লাগত। ক্রিকেট কে দেখবে? যেকোনো ইভেন্টে শর্ট অ্যান্ড শার্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেশি থাকে। বোল্ট তো বড় নাম ছিল, তাকে দেখতাম।’