ইন্দোনেশিয়া ৯-২ বাংলাদেশ (ইমন, ফারহান)
দুই দলের সর্বশেষ ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তাই সবার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ প্রথম দুই ম্যাচে হারলেও অন্তত ফাইট করবে। কিন্তু লড়াই তো দূরের কথা। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের ফুটবল যে উচ্চতায় উঠেছিল তা যেন এক ঝটকায় তা মাটিতে নামিয়ে দিলো ইন্দোনেশিয়া। জাকার্তার গেরুলো বুং কার্নো স্টেডিয়ামে লাল-সবুজদের জালে ৯ বার বল পাঠিয়েছে আসিয়ান অঞ্চলের দলটি। ম্যাচটি তারা জিতেছে ৯-২-এ। বাংলাদেশ দলের রক্ষনভাগের চরম ব্যর্থতায় এই বাজে হার। যদিও এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল ইন্দোনেশিয়া ফাইনালে যেতে পারবে না। কারণ কাল গ্রুপের অন্য ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৬-০ গোলে হারিয়ে এগিয়ে গিয়েছিল মালয়েশিয়া। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার আগের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হওয়ায় মালয়েশিয়া ছিল এগিয়ে। তাই ইন্দোনেশিয়া ৮-২ গোলে জিতলেও লাভ হতো না। তাদের ৯ গোলেই জিততে হতো। শেষ পর্যন্ত সেই কাজই তারা করেছে। ইনজুরি টাইমে জোড়া গোল করে তারা মালয়েশিয়াকে টপকে চলে গেছে ফাইনালে। অবশ্য রেফারির দেয়া ইনজুরি টাইম নিয়ে প্রশ্ন আছে। প্রথমে ২ মিনিট দেখিয়ে এরপর ৭ মিনিট দেখান। আর এই বাড়তি ৫ মিনিটেই তাদের কাক্সিত আরো দুই গোল।
ম্যাচের ১১ মিনিট বয়স থেকেই গোলের শুরু ইন্দোনেশিয়ার। এরপর যোগ করা সময়ের শেষ দুই মিনিটে ৯৬ ও ৯৭ মিনিটে আরো দুই গোল। ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার মিচেল লি বাকের পাঁচ গোল করেন। তার গোলগুলো ছিল ১১, ২০, ৩৭ , ৪২ ও ৯৭ মিনিটে। এ ছাড়া রিদো ৩২ মিনিটে , হাবনার ৪৫ মিনিটে, ভিকেরি ৯০ ও ডিক্স ৯৬ মিনিটে গোল করেন।
ম্যাচে বাংলাদেশের সান্ত্বনা একটাই। তারা দুইবার বল পাঠাতে পেরেছিল ইন্দোনেশিয়ার জালে। প্রথমে ৩৬ মিনিটে শুকি ইতোফোসার ক্রসে শাহরিয়ার ইমন হেডে গোল করেন। তখন স্কোর ছিল ৩-১। এরপর ৯১ মিনিটে ইংল্যান্ড প্রবাসী ফারহান আলী ওয়াহিদ বল জালে পাঠান রাকিবের পাস থেকে।
ইন্দোনেশিয়া তাদের টার্গেট পূরণ করেছে; কিন্তু বাংলাদেশ দল কী পেল। টমাস ডুলির দল টানা তিন ম্যাচেই হেরেছে। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ০-৩ গোলে হারের পর দ্বিতীয় খেলায় সিঙ্গাপুরের কাছে ০-১ গোলে হার। সেই বাংলাদেশ কাল রক্ষনভাগের চরম ব্যর্থতায় দুই হালি গোলের বেশি গোলে হারল। ডুলি যেন ৮০ ও ৭০-এর দশকের বাংলাদেশ দলকেই কাল ফিরিরে আনলেন জাকার্তার মাঠে। তখন বাংলাদেশ ইরান ও হংকংকের কাছে ৯ গোলে হেরেছিল। এখন বাংলাদেশ দল সাফে কেমন করবেÑ সেটিই প্রশ্ন।
পোস্টের নিচে শ্রাবণ ছিলেন বলে রক্ষা। তা না হলে এই গোল হজমের ঘটনা ডাবল ডিজিট অতিক্রম করত। একটি দলের রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ড কেন এত বাজে খেলবে। কোচের কী নির্দেশনা ছিলÑ সেটিই এখন প্রশ্ন।





