জাতীয় দলে এখন একপ্রকার ব্রাত্য সাকিব আল হাসান। বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেই সময় কাটছে তার। বয়সটাও শেষ দিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাটাও অনেকটা অসম্ভব এখন।

কিন্তু হঠাৎ ক্রিকেট পাড়ায় খবর রটে, আবারো জাতীয় দলে ফিরছেন সাকিব আল হাসান। তাকে ফেরাতে উদ্যোগ নিচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড। বোর্ড পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠুর এক মন্তব্য গুঞ্জনের পালে হাওয়া লাগে।

গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে দিন দুয়েক আগে তিনি সাকিবকে ‘গ্রেটেস্ট অলরাউন্ডার’ আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের গ্রেটেস্ট ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। এখানে কোনো সেকেন্ড চয়েস নেই। তার জন্য দরজা সবসময় খোলা। এটা নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর, তারা চিন্তা করছে।’

তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আগে কিভাবে চলেছে জানি না কিন্তু এখন বর্তমান সভাপতি পুরো দায়িত্ব ক্রিকেট অপারেশন্স, টিম ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাচকদের ওপর দিয়েছেন। তাদেরও নজরে এসেছে। সেটা দেখা হবে। তারা অবশ্যই ব্যাপারটি দেখবে।’

এদিকে এই প্রসঙ্গে কথা বলেন সাকিব আল হাসানও। সম্প্রতি গ্লোবাল লিগে ব্যস্ত সাবেক এই নাম্বার ওয়ান অলরাউন্ডার এক সাক্ষাৎকার দেন স্থানীয় এক গণমাধ্যমকে। সেখানে তিনি জানান, এখনো ফিরতে চান জাতীয় দলে।

৩৮ বছর বয়সী সাকিব বলেন, ‘আমি এখনো খেলাটাকে খুবই উপভোগ করি, আমি মনে করি এটাই গুরুত্বপূর্ণ। যতদিন আমি উপভোগ করব ততদিনই আমি খেলে যাব।’

এদিকে দুইয়ে দুইয়ে চার মিলে খবর রটে সাকিব চাইলে তাকে প্রাথমিকভাবে শুধু দেশের বাহিরে খেলানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সাকিবের সাথে কথা বলতে নাজমুল আবেদিন ফাহিমকে নাকি দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।

সাকিব ইতিবাচক মনোভাব দেখালে বোর্ডে চূড়ান্ত কথাবার্তার পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল সরকারের উর্ধ্বতন মহলের সাথে কথা বলে তাকে দেশের বাইরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেবেন।

কিন্তু এমন গুঞ্জনের সত্যতা জানতে যোগাযোগ করা হয় বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সাথে। তবে তিনি যা বললেন, তা যেন গুঞ্জনে পানি ঢেলে দিলো!

বুলবুল জানান, ‘না, না এ ধরনের কোনো কথা আমি শুনিনি। সাধারণত এমন হলে তো বোর্ডে আলোচনা হবে। আমি অফিসিয়ালি এখনো এমন কিছু শুনিনি, এটাই সত্য।’

এরপর তিনি আরো বলেন, ‘বোর্ডে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। ক্রিকেটের বাইরের আলোচনা আমরা এত বেশি করছি না। এমন আলোচনা গত দুই বছর ধরেই চলছে। এই তথ্যটা আসলে গুজব কি না, তা আমি জানি না। আমি তো বোর্ডের সভাপতি সেই হিসেবে এটা আমি জানি না।’

উল্লেখ্য, জাতীয় দলের হয়ে সাকিব সবশেষ গেল বছরের আগস্টে খেলেছিলেন ভারতের বিপক্ষে। এরপর ঘরের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ দিয়ে সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে বিদায় নিতে চেয়েছিলেন।

তবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত তার আর দেশে ফেরা হয়নি। এরপর থেকে লাল-সবুজের জার্সিতেও দেখা যায়নি সাকিবকে। বিভিন্ন সময়ে টাইগার ক্রিকেটারকে দলে ফেরানোর কথা শোনা গেলেও পরে সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি।