জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সমালোচনায় বিদ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মুখোমুখি মেসুত ওজিল। তবে অধিকাংশেরই ধারণা, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়েব এরদোগানের সাথে ছবি তুলে জার্মান ফুটবলারটি ভুল করেননি। তবে একাংশের মত, শিকড়ের খোঁজে তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে দেখা করা বা ছবি তোলা উচিত হয়নি ওজিলের। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার নাগরিকরা স্বাগত জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারটির সিদ্ধান্তকে।
তবে সোমবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিএফবি জানিয়েছেন, ‘মেসুত ওজিলের বিরুদ্ধে কোনো বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য করেননি সংস্থার প্রধান রেনহার্ড গ্রিন্ডল। তবে তুরস্কের রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে ছবি তোলার জন্য অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে ওজিল এবং গুন্ডোগানকে। জার্মানির জাতীয় ফুটবল দলের প্রতি ওজিলের দায়বদ্ধতা নিয়ে কোনো প্রশ্নই তোলা হয়নি।’
গত রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবসর ঘোষণা করেছেন জার্মানির এই তারকা ফুটবলার। তার বক্তব্য, ‘কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এরদোগানের সাথে দেখা করিনি। আমার হৃদয়ে জার্মানির পাশাপাশি তুরস্কের জন্য বিশেষ স্থান রয়েছে। নিজের শিকড় কী ভুলে যাওয়া সম্ভব? তা সত্ত্বেও বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্য ক্রমাগত শুনে যেতে হচ্ছে। যা আদৌ কাঙ্ক্ষিত নয়। বর্ণবিদ্বেষ কখনও মেনে নিইনি। এখনও নেব না। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের সাথে দেখা করা কিংবা ছবি তোলার জন্য ডিএফবি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে যে বর্ণবিদ্বেষী সমালোচনা শুনেছি তা মানতে পারছি না। প্রত্যেকেরই সহ্যের সীমা রয়েছে। জার্মানির হয়ে মাঠে এত বছর ঘামরক্ত নিংড়ে দেয়ার পরেও আমার দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অযৌক্তিক। আবার বলছি, ২০১০ সালে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে আমার আলাপ হয়েছিল। তারপর থেকেই সম্পর্ক নিবিড় হয়। তাই তার সাথে দেখা করা বা ছবি তোলার জন্য বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই।’
উল্লেখ্য, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সাথে ছবি তোলার জন্য জার্মান সমর্থকরা ওজিলের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। ডিএফবি’র প্রেসিডেন্ট রেনহার্ড গ্রিন্ডল এক সাক্ষাৎকারে ওজিলের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘তুরস্ক থেকে যারা জার্মানিতে এসেছে তাদের উচিত রাজনৈতিক মতাদর্শ মেনে চলা। ওই দেশের পাতা ফাঁদে পা দিলে সমস্যা বাড়তেই পারে।’ এরপর অবশ্য ওজিলের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন জার্মানির কোচ জোয়াকিম লো এবং জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমিয়ার। এই দু’জনকে পাশে পেয়ে ওজিলের মন্তব্য ছিল, ‘ম্যাচ জিতলে আমি জার্মান। আর হারলেই অভিবাসী।’
আরো পড়ুন : অবশেষে ক্ষোভে-দুঃখে অবসর নিলেন ওজিল
জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতি একরাশ ক্ষোভ। রাগ সমর্থকদের প্রতিও। বিশ্বকাপের মঞ্চে অপমানজনক ব্যবহার হজম করতে পারেননি ২৯ বছর বয়সী জার্মান ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের ক্ষোভ উগড়ে গিয়ে ওজিল জানালেন, এর পর আর জার্মানির জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামা সম্ভব নয় তার পক্ষে। তাই এখন থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসরের গ্রহে ঢুকে পড়লেন তিনি।
রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যায় ২০১৪’র বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বাকিদের সাথে ব্যর্থতার দায় গিয়ে পড়ে ওজিলের খাপার ফর্মের উপরেও। তবে পারফরম্যান্স জনিত কারণে নয়, দলের মধ্যে ওজিল কোণঠাসা হয়ে পড়েন রাজনৈতিক কারণে।
জার্মান হলেও পারিপারিক সূত্রে তুরস্কের সাথে যুক্ত ওজিল বিশ্বকাপের ঠিক আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তায়েব এরদোগোনের সাথে একটি ছবি পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতেই বেজায় চটে যায় জার্মান ফুটবল সংস্থা।
কোচ জোয়াকিম লো কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন, বিশ্বকাপের আগে বিতর্কিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সাথে বৈঠক, ছবি তোলা, অটোগ্রাফ দেয়া জার্সি উপহার, এসব তিনি বরদাস্ত করবেন না।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ভাবমূর্তি জার্মান জনমানসে স্বচ্ছ না হওয়ায় ওজিলকে এমন কাজের জন্য তীব্র ভর্ৎসনা করে জার্মান ফুটবল সংস্থা। সমর্থদেরও টিপ্পনি শুনতে হয় আর্সেনাল তারকাকে। সব মিলিয়ে রীতিমতো অপমানিত বোধ করেন ওজিল। সেই ক্ষোভ থেকেই অন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি।








