নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় কোনো কোনো উপদেষ্টার মন খুবই খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বুধবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর আলুপটি মোড়ে মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিজয় র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রফেসর ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কিছুদিন আগে আমাদের নেতা তারেক রহমানের সাথে প্রফেসর ইউনূস সাহেব বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে তিনি ওয়াদা করেছিলেন যে- ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিবেন। তিনি তার কথা রেখেছেন।
বিএনপির এই নেতা হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রকৃত অর্থে আমরা একটি গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিলাম। এই আন্দোলনে বিএনপির অন্তত ৫০০ কর্মী শহীদ হয়েছেন।
এই আন্দোলনকে অর্থবহ করে তুলতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রফেসর ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এক ধরনের উপদেষ্টা তারা বলার চেষ্টা করছে যে- তারা ৫ বছরের জন্য এখানে এসেছে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করেছে ইউনূস সাহেবের সরকার যতদিন দরকার চলুক। আর নির্বাচিত সরকারের কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের কারো কারো মতে, রাজনৈতিক দলগুলো এই দেশকে ধ্বংস করেছে। তাই তাদের আর রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভোটে চারবার ক্ষমতায় গিয়েছে। কিন্তু আমরা রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কখনোই উদগ্রিব ছিলাম না। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে যদি জনগণের নির্বাচিত সরকার না থাকে তাহলে এই দেশের উন্নয়ন হবে না। ১৯৭১ সালে মেজর জিয়াউর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছিলাম। তখন যদি আমরা সৈনিকেরা ও ছাত্ররা পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ না করতাম তাহলে দেশ আজো স্বাধীন হতো না। ৭১ এর যুদ্ধ ছিল গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ। এই গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগের সরকার।’
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী ইশার সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুন অর রশিদ মামুন প্রমুখ।








