ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এমনকি জরুরি বিভাগেও বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় রোগী দেখতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। একইভাবে নার্স ও কর্মীদেরও মোবাইলের আলোয় দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। হাসপাতালের দু‘টি জেনারেটরের একটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। অপরটি দিয়ে পুরো হাসপাতালের বিদ্যুৎ চাহিদা সামাল দেয়া যাচ্ছে না।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ নিচতলা, দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় বিদ্যুৎ ছিল না। এ সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা: নাজমুল হক রনিকে মোবাইল ফোনের টর্চের আলোয় রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে দেখা যায়। জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্ব পালনকারী সুজনও মোবাইলের টর্চের আলোয় রোগীদের টিকিট দেন।
বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমের মধ্যে ওয়ার্ড ও বারান্দায় থাকা রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। অনেকে মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করেন ও হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা যায়।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রাত ১টার পর থেকে প্রায়ই লোডশেডিং হয়। এর এক দিন আগেও রাত ২টার পর হাসপাতালের বিভিন্ন ফ্লোরে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগী, স্বজন, চিকিৎসক ও নার্সদের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছিল।
হাসপাতালের দু‘টি জেনারেটরের মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অপর জেনারেটরটি সচল থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় প্রয়োজনের সময় চালানো সম্ভব হয় না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও কার্যকর থাকছে না।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রতন কুমার ঢালী বলেন, ‘বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের জন্য চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন ঘটছে। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। আমাদের একটি জেনারেটর দিয়ে কভার হচ্ছে না। আবার জেনারেটরটি অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আমরা আরেকটি জেনারেটর স্থাপনের চেষ্টা করছি।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ইউনিটে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে রোগীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে অক্সিজেন, নেবুলাইজেশনসহ বিভিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ।
লোডশেডিংয়ের কারণে হাসপাতালের মর্গেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গেছে। হিমাগারে থাকা চারটি ফ্রিজে অজ্ঞাত পরিচয়সহ বিভিন্ন লাশ সংরক্ষণ করা হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে লাশ সংরক্ষণে সমস্যা তৈরি হয়ে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া সময়মতো ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালে নিয়মিত অজ্ঞাত রোগীদের দেখাশোনা করা ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: আজহার উদ্দিন বলেন, ‘বাসাবাড়িতে লোডশেডিং হলে মানুষ কোনোভাবে সামলে নিতে পারেন। কিন্তু হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে চিকিৎসাসেবায়। অসুস্থ রোগী, স্বজন ও দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক-নার্সদের মোবাইলের টর্চের আলোয় কাজ করতে দেখা খুবই কষ্টের।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে হাসপাতালের নিচতলা থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী ভর্তি রয়েছেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। এ অবস্থায় হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।





