কুমিল্লার সীমান্তবর্তী উপজেলা ব্রাহ্মণপাড়ায় দিন দিন বাড়ছে বন্য বানরের উৎপাত। গত কয়েক দিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে দলবদ্ধভাবে বানর লোকালয়ে ঢুকে বাসাবাড়ির গাছের ফলমূল ও শাকসবজি নষ্ট করছে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা গ্রামের খানবাড়িতে একদল বানর ঢুকে পড়ে। এ সময় বানরগুলো গাছের পেয়ারা, পেঁপে ও চালার লাউ পেড়ে নষ্ট করে। এর এক সপ্তাহ আগে একই গ্রামের আব্দুল আলীম খানের বাড়িতেও বানরের দল ঢুকে ফলমূলের ক্ষতি করে।

একই গ্রামের গাজীবাড়িতেও বানরের উৎপাত দেখা দিয়েছে। বাড়ির বাসিন্দা মোস্তফা কামাল জানান, বানরগুলো বাড়িতে ঢুকে পেয়ারা, আমড়াসহ বিভিন্ন ফল ছিঁড়ে নষ্ট করে চলে যায়।

এদিকে গত ১৫ দিন ধরে ধান্যদৌল চৌধুরীবাড়িসহ আশপাশের এলাকাতেও একাধিক বানরের বিচরণ দেখা যাচ্ছে। চৌধুরীবাড়ির প্রধান শিক্ষক অপু খান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বাড়িতে গত দুই সপ্তাহ ধরে কয়েকটি বানর ঘোরাফেরা করছে। বানরগুলো গাছ থেকে কলা, পেঁপে, পেয়ারা, জাম্বুরা ও লাউ ছিঁড়ে নষ্ট করছে। কোনোভাবেই এগুলোকে আটকানো যাচ্ছে না।’

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে উপজেলার সিদলাই, চান্দলা, শশীদল, মাধবপুর, মালাপাড়া, সাহেবাবাদ ও ব্রাহ্মণপাড়া সদরের বিভিন্ন গ্রামে বন্য বানরের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এতে ফলমূল ও সবজির ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সিদলাই আমীর হোসেন জাবেদা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো: নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বানর স্বভাবতই শান্ত ও দলবদ্ধ প্রাণী। তারা এভাবে লোকালয়ে হানা দেয় না। কিন্তু প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ায় তারা লোকালয়ে চলে আসছে। বন্য প্রাণীর এই উপদ্রব থেকে ফসল ও ফলমূল রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বন কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বন ও প্রাকৃতিক ঝোপঝাড় কেটে মানুষের বসতি ও বাগান গড়ে তোলার কারণে বনের আয়তন কমে যাচ্ছে। ফলে বন্য প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে এবং খাদ্যসঙ্কট দেখা দিচ্ছে। খাবারের সন্ধান ও জীবন বাঁচাতে বানরগুলো লোকালয়ে প্রবেশ করছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি।’