মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা ও ঝরে পড়া রোধে সরকার ‘মিড-ডে মিল’ চালু করলেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি স্কুলে তা নিয়ে চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২০ নম্বর ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাগজ-কলমে ১৫১ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে খাবার বরাদ্দ এলেও বাস্তবে স্কুলে মিলছে অর্ধেকেরও কম শিশু। বাকি ৭৬ জনের বরাদ্দ করা খাবারের হিসাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন প্রধান শিক্ষক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী স্কুলে ১৫১ জন শিক্ষার্থীর দুপুরের খাবার আসে। তবে সরেজমিনে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। শ্রেণীকক্ষ ঘুরে প্রথম শ্রেণীতে ১৪, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১৫, তৃতীয় শ্রেণীতে ১৫, চতুর্থ শ্রেণীতে ২৩ এবং পঞ্চম শ্রেণীতে ৮ জনসহ মোট ৭৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত ৭৬ জনের সরকারি খাবার প্রতিদিন কোথায় যাচ্ছে বা কীভাবে বিতরণ দেখানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহানা ইসলাম সাংবাদিকদের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উল্টো ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো উত্তর দেবো না। আপনারা লিখিত আবেদন করলে লিখিত জবাব দেয়া হবে।
প্রধান শিক্ষকের এমন রহস্যজনক ব্যবহারে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক জানান, খাবার বিতরণে অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। কোনো সমস্যা না থাকলে প্রধান শিক্ষক তথ্য দিতে অস্বীকার করতেন না। ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, তদন্তে অনিয়ম পাওয়া গেলে বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, শিক্ষার্থী সংখ্যার সাথে উপস্থিতির যে তফাত দেখা গেছে এবং প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে দেখছি। তদন্তের জন্য শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। দুর্নীতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।





