ফজলুল করিম ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে প্রান্তিক খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিবন্ধনের জন্য বরাদ্দ ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’ (এলডিডিপি)-এর অর্থ ব্যয়ে অনিয়ম ও ভুয়া মাস্টাররোল তৈরির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল মোমিনের বিরুদ্ধে এ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন খামারি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট নথি ও খামারিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডেইরি প্রডিউসার গ্রুপ (পিজি) শক্তিশালীকরণ ও নিবন্ধনের অংশ হিসেবে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ১৪টি পিজির ৫৩৭ জন খামারির জন্য ১১ দিনের সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নির্ধারিত ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসে প্রতিটি পিজির দু’টি করে মোট আটটি সভা এবং তিনটি প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা।
এসব সভা ও প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দ ছিল তিন লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত কর্মসূচির পরিবর্তে হাতেগোনা কয়েকটি সভা করে ব্যয় দেখানো হয়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টাকা। খামারিদের দাবি, ১১ দিনের সভা ও প্রশিক্ষণ এক দিনেই শেষ করে পুরো বরাদ্দ তুলে নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ছাড়া পিজিগুলোকে সমবায় সমিতির অধীনে নিবন্ধন ও উদ্বুদ্ধকরণ সভার জন্য বরাদ্দ ছিল এক লাখ ৯৬ হাজার ৭৫০ টাকা। খামারিদের অভিযোগ, এসব কর্মসূচিতে নিম্নমানের নাশতা দিয়ে ব্যয় কমানো হয়েছে এবং কোনো পিজির নিবন্ধন ফিও সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেয়া হয়নি। প্রকল্পের মেয়াদ গত জুনে শেষ হলেও নিবন্ধনের কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
নথিতে ৫৩৭ জন খামারির প্রায় শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হলেও খামারিদের দাবি, বাস্তবে উপস্থিত ছিলেন ২৫৩ জন। অনুপস্থিত সদস্যদেরও উপস্থিত দেখিয়ে মাস্টাররোলে স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। কাঞ্চননগরের খামারি লাকি আক্তার বলেন, চার মাসে আটটি প্রশিক্ষণে অংশ নেয়ার কথা থাকলেও তাকে দু’টিতে ডাকা হয়েছে। একটি সভায় গিয়ে ফাঁকা ও আগের কয়েকটি মাস্টাররোলে একসাথে স্বাক্ষর নেয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
বখতপুরের খামারি মো. সোহেল বলেন, তিনি মাত্র একটি প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। অথচ অফিসে থাকা একাধিক মাস্টাররোলে তার স্বাক্ষর রয়েছে বলে পরে জানতে পেরেছেন।
মধ্য কাঞ্চননগরের খামারি আহম্মদুল হক বলেন, যে দিন তাকে ডাকা হয়েছিল, সেখানে কোনো প্রশিক্ষণ হয়নি। কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার পর নাস্তার প্যাকেট দিয়ে তাদের বিদায় করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল মোমিন প্রথমে তা অস্বীকার করেন। পরে তিনি বলেন, ‘ছোটখাটো কিছু অনিয়ম হয়ে থাকলে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত।’ তার দাবি, এ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত হলে ভবিষ্যতে কর্মকর্তারা সেখানে কাজ করতে অনাগ্রহী হতে পারেন।
ফটিকছড়ি ইউএনও সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, প্রাণিসম্পদ অফিসের অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এলডিডিপি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল বলেন, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।





