জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থানে অবাধে বিচরণ করছে কুকুর-বিড়াল। হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ, রোগীদের চলাচলের স্থান ও আশপাশের এলাকায় দলবেঁধে কুকুর ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন স্থানে দলবেঁধে কুকুর ঘোরাফেরা করছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ডায়রিয়া ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ, ডেলিভারি ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরছে কুকুর। রোগী ও স্বজনদের চলাচলের সময়ও এসব কুকুরকে নির্বিঘ্নে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।
জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন বিভিন্ন বয়সের রোগীরা। তাদের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীর সংখ্যাও রয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে কুকুরের অবাধ বিচরণে যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন তারা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী ও স্বজন বলেন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কুকুরের অবাধ চলাচল কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে শিশু ও রোগীদের কাছাকাছি কুকুর চলে এলে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি অতি দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।
মীম আক্তার নামে এক রোগী বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের ইমারজেন্সি ওয়ার্ড দিয়ে যাওয়ার সময় কুকুর দেখে ভয় পাই। কয়েকটি কুকুর হাসপাতালের ফ্লোরে শুয়ে আছে। তাড়ালেও সরে না। পরে অন্য পথ দিয়ে হাসপাতালটির দ্বিতীয় তলায় যাই আমরা। হাসপাতালে আসার পর থেকেই বের হতে ভয় পাই।’
বহির্বিভাগে সেবা নিতে আসা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এত বড় একটি হাসপাতাল আর সেখানে অনায়াসে কুকুর ঢুকছে। কুকুরগুলো এই হাসপাতালটির পরিবেশ নষ্ট করছে। যদি কাউকে কামড় দেয় তাহলে কি উপায় হবে।’
এ বিষয়ে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহসান হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘শুধু হাসপাতাল নয়, সর্বত্রই কুকুরের উৎপাত বেড়েছে। এ বিষয়ে জেলার সর্বোচ্চ মহলের সভায় আলোচনা হয়েছে। কুকুরগুলোকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে।’





