চাঁদপুরের মতলব উত্তরে নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরগামী মুকবিল-২ লঞ্চ থেকে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মুকবিল-২ লঞ্চ ও লঞ্চের ২জন স্টাফ আটক করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার ষাটনল লঞ্চ টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মুকবিল-২ লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে এসে ষাটনল লঞ্চঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল। এ সময় ওই যুবক লঞ্চ থেকে নামার পর নিজের ব্যাগ লঞ্চে রেখে যাওয়ার কথা মনে পড়ে আবার লঞ্চে ওঠেন। পরে তিনি ফের লঞ্চ থেকে নামার সময় লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে দেয়া হয়। এ সময় ঘাটে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।
ঘটনার পর মুকবিল-২ দ্রুত সেখান থেকে মোহনপুর লঞ্চঘাটের দিকে চলে যায়। পরে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা লঞ্চটি এবং দুইজন স্টাফকে আটক করেচে বলে জানিয়েছেন ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: রুহুল আমিন।
নিখোঁজের প্রায় তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে কোনো ডুবুরি বা বিশেষ উদ্ধারকারী দল পৌঁছায়নি। তবে বেলতলী নৌ পুলিশ, মোহনপুর নৌ পুলিশ ও মতলব উত্তর থানা পুলিশের সদস্যরা স্থানীয়দের নিয়ে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
স্থানীয় সৈকত জানান, লঞ্চ চালকদের ভুলের কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করছেন।
ষাটনল লঞ্চঘাটে আগে এমন ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
এদিকে, লঞ্চযাত্রীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর উদ্ধার অভিযান এবং যাত্রী ওঠানামার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ষাটনল লঞ্চঘাটের ইজারাদার মো: ইমন জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।
বেলতলী নৌ পুলিশের ইনচার্জ মোজাম্মেল হক পিপিএম জানান, নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজ যুবকের পরিচয়ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, বিষয়টি জানার পরপরই নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি ইউনিটের সাথে কথা বলেছি। নিখোঁজ যুবকের সন্ধানে প্রয়োজনীয় উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।





