মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া নোয়াখালী
নোয়াখালীতে ইলিশের ভরা মৌসুমেও নদী ও সাগরে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলেরা। মাছের সঙ্কটে আয় কমে যাওয়ায় দাদন ও ট্রলার ভাড়ার টাকা পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন জেলার উপকূলীয় এলাকার জেলে পরিবারগুলো।
জেলার হাতিয়া, সুবর্ণচর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের অনেকেই প্রতি বছর দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মাছ ধরার কাজে নামেন। ইলিশের মৌসুমে মাছ বিক্রির আয় দিয়ে তারা দাদনের টাকা পরিশোধের পাশাপাশি সংসারের খরচ চালান। তবে চলতি মৌসুমে আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় সেই হিসাব মিলছে না।
স্থানীয় জেলে হরিদাস, সানাউল্লাহ মাঝি, মনজু মাঝি, আক্তার মাঝি ও নাজির মাঝি জানান, ইলিশের মৌসুমে ভালো মাছ পেলে দাদনের টাকা পরিশোধের পর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হয়। কিন্তু এবার নদী ও সাগরে মাছ কম পাওয়ায় ট্রলার ভাড়া ও জেলেদের মজুরি পরিশোধ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে মহাজনের দেনা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের মাছের আড়তদার মহিব উল্লাহ বলেন, জেলেরা নদী ও সাগরে মাছ ধরতে গেলেও অনেক সময় প্রায় খালি হাতে ফিরছেন। যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে ট্রলার ভাড়া পরিশোধ করাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। একইসাথে বাজারে ইলিশের দামও বেড়েছে।
স্থানীয় বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বছরের এ সময়ে জেলার বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ী, চাটখিল, সেনবাগ, কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট ও সুবর্ণচরসহ বিভিন্ন উপজেলায় ইলিশের সরবরাহ বাড়ে। এতে অন্যান্য মাছের সঙ্কটও কিছুটা পূরণ হয়। কিন্তু চলতি মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে এবং দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে তারা জানান।
নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, ইলিশ কম পাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদীতে ডুবোচর ও দীর্ঘ সময় অনাবৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে এবার ইলিশের প্রাপ্যতা কম হতে পারে।





