সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি। এর মধ্যেই কীর্তিনাশা নদীর দুই পাড়ে জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার মানুষ। দুপুর গড়াতেই বৈঠার ছন্দে মুখর হয়ে ওঠে নদীর পানি। সারিগানের তালে তালে বৈঠার টানে রঙিন সাজে সজ্জিত নৌকাগুলো ছুটে চলে নদীর বুকে। নৌকা যতো এগিয়ে যায়, ততই বাড়তে থাকে দুই পাড়ের মানুষের উচ্ছ্বাস ও করতালি। কখনো বৃষ্টি আবার কখনো রোদ উপেক্ষা করে নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে জড়ো হন শরীয়তপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলারগুলোর হাজার হাজার মানুষ। এভাবেই উৎসবমূখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শরীয়তপুরের ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচের ফাইনাল পর্ব ও বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা এবং খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। শরীয়তপুর সদর উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তিনাশা নদীর ডোমসার ইউনিয়নের তেতুলিয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে প্রতিযোগী নৌকাগুলো তুলাসার ইউনিয়নের রাজগঞ্জ ব্রিজ হেলিপ্যাড এলাকায় গিয়ে শেষ করে প্রতিযোগিতা। নৌকাবাইচের ফাইনাল পর্বে বিভিন্ন এলাকার মোট ১৪টি দল অংশ নেয়। তাদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে আমগ্রাম এক্সপ্রেস। দ্বিতীয় হয় সাত সমাজ এক্সপ্রেস-১ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে মামা ভাগিনা এক্সপ্রেস।
প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়। গ্রামবাংলার এ আয়োজন উপভোগ করতে শরীয়তপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলার হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে কীর্তিনাশা নদীর দুই পাড়ে। রঙিন সাজে সাজানো নৌকার মাঝিমাল্লাদের সারিগানের সুর, বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর পরিবেশ হয়ে ওঠে কীর্তিনাশা নদীর দুই পাড়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর দুই পাড়ে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে ও নদীর পাড়ে দাড়িয়ে উপভোগ করেন শরীয়তপুরের ঐতিহ্যবাহী এ নৌকাবাইচ।
নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করেন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম। অনুষ্ঠানে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবরের পরিচালনায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালু। অন্যদের মধ্যে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সিরাজুল হক মোল্লা, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল বেপারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, শুধু বিনোদনের জন্য নয়, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের সাথে তাদের সম্পৃক্ত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ। আমরা আশা করছি ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।





