পিরোজপুরের কাউখালীর বিভিন্ন হাট-বাজারের ভাতের হোটেলে নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার বেশিভাগ খাবার হোটেলে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখার পাশাপাশি বাসি-পচা খাবার বিক্রি এবং আগের দিনের উদ্বৃত্ত মাছ, মাংস ও সবজি পরদিনের খাবারের সাথে মিশিয়ে পরিবেশনের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত ক্রেতারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন বাজারের বেশ কিছু হোটেলের রান্নাঘর ও খাবার পরিবেশনের স্থান অপরিচ্ছন্ন। রান্নাঘরে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকলেও যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয় না। রান্না করা খাবার অনেক সময় ঢাকনা ছাড়াই খোলা অবস্থায় রাখা হয়। এতে মশা-মাছি, ধুলাবালি ও অন্যান্য জীবাণু খাবারে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া খাবার তৈরির কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ক্রেতারা। 

অনেক ক্ষেত্রে হাত পরিষ্কার না করে খাবার পরিবেশন, অপরিষ্কার পোশাক পরিধান এবং স্বাস্থ্যসম্মত নিয়ম না মেনেই রান্নার কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

নিয়মিত হোটেলে খাওয়া একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কাজের প্রয়োজনে অনেক সময় বাধ্য হয়েই হোটেলে খাবার খেতে হয়। কিন্তু বেশ কিছু হোটেলে প্রায়ই নিম্নমানের, বাসি বা দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করা খাবার পরিবেশন করা হয়। এসব খাবার খেয়ে গ্যাস্ট্রিক, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পেটের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাজারগুলোতে নিয়মিত ও কার্যকর মনিটরিং না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে খাবার বিক্রি করছেন। ফলে একদিকে যেমন ক্রেতারা প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন, অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মো: নুরুল আলম বখতিয়ার বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে উপজেলার বিভিন্ন বাজারের হোটেলগুলোতে তদারকি পরিচালনা করছি। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও বাসি খাবার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। খুব শিগগিরই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: সুব্রত কর্মকার বলেন, ‘বাসি, পচা ও খোলা খাবার গ্রহণের ফলে ফুড পয়জনিং, ডায়রিয়া, আমাশয় ও গ্যাস্ট্রিকসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার গ্রহণ করলে লিভার ও পাকস্থলীর ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় খাবার হোটেলগুলোতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নিরাপদ ও টাটকা খাবার পরিবেশন করা অত্যন্ত জরুরি।’