আসাদুল ইসলাম সবুজ লালমনিরহাট
লালমনিরহাট ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে মেয়াদোত্তীর্ণ ও অকার্যকর অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রাখা হয়েছে। হাসপাতালের নতুন ও পুরনো ভবনের বিভিন্ন স্থানে ঝুলছে এসব সিলিন্ডার। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো রোগী ও স্বজনের জীবন অগ্নিঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। জনবল সঙ্কট, চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব, অপরিচ্ছন্নতা ও শয্যাসঙ্কটের মধ্যে নতুন করে অগ্নিনিরাপত্তার এ দুরবস্থাসংশ্লিষ্ট সবার উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জানা গেছে, জেলার পাঁচ উপজেলা ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা এ হাসপাতালটি। ১০ তলা ভিতের আটতলা নতুন ভবনের নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত বৈদ্যুতিক সাব-ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ডের পাশে ও করিডোরে ‘গ্যালাক্সি’ ব্র্যান্ডের অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার ঝুলছে। সিলিন্ডারের গায়ে থাকা স্টিকার অনুযায়ী, এগুলোর মেয়াদ গত ২০ আগস্ট শেষ হয়েছে। পুরনো ভবনেও একই অবস্থা। প্রায় এক মাস ধরে কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে হাসপাতালটি। শর্টসার্কিট বা অন্য কোনো কারণে আগুন লাগলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে হাসপাতালটিতে ১৯২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২১ জন। শূন্য রয়েছে ৭১টি পদ। কার্ডিওলজি, নাক-কান-গলা, শিশু ও গাইনি বিভাগে নেই সিনিয়র কনসালট্যান্ট। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার আধুনিক যন্ত্রপাতির অনেকগুলোই নষ্ট কিংবা অনুপস্থিত। ফলে রোগীদের প্রায়ই রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এ কারণে স্থানীয়দের কাছে হাসপাতালটি ‘রেফার্ড হাসপাতাল’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
নতুন ভবনের আটতলার মধ্যে নিচতলা ছাড়া বাকি সাত তলার কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি। পুরনো ১০০ শয্যার ভবন ও জনবল দিয়েই চলছে ২৫০ শয্যার চিকিৎসাসেবা। শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে করিডোর ও মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। ওয়ার্ডে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। শৌচাগারগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ধুলাবালু, মশা-মাছি এবং কুকুর-বিড়ালের অবাধ বিচরণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করে লালমনিরহাট ও রংপুরের বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখেন। বিনামূল্যের সরকারি ওষুধ ও স্যালাইন বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তিস্তার চর থেকে আসা রোগী আলী হোসেন (৬০) বলেন, ‘বেড পাইনি, মেঝেতে বিছানা পেতে আছি। ডাক্তার পাঁচটি ওষুধ লিখেছেন, হাসপাতাল থেকে পেয়েছি দু’টি। বাকি তিনটি কেনার টাকা এখন আমার কাছে নেই।’
ফুলবাড়ী থেকে আসা জোহরা খাতুন (৫৫) বলেন, ‘মেয়ের পেটে ব্যথা। এখানকার চিকিৎসক ওষুধ না দিয়ে রংপুরে রেফার্ড করলেন। আমার সামনেই আরেকজনকে একইভাবে রেফার্ড করা হলো।’
লালমনিরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মুক্তি মাহমুদ বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। হাসপাতালের মতো জনাকীর্ণ ভবনে সচল ও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক সিলিন্ডার রাখা বাধ্যতামূলক।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরশাদ হোসেন বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের বিষয়টি ফায়ার সার্ভিসকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সিলিন্ডার রিফিল ও পরিবর্তনের কাজ চলছে। তিনি বলেন, ১০০ শয্যার পুরনো জনবল দিয়েই ২৫০ শয্যার সেবা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। জনবল সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।