সাইফুল ইসলাম নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা)
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাতবাড়িয়ায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা খালের ওপর দু’টি সেতুর নির্মাণকাজ দুই বছরেও শেষ হয়নি। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য পুরনো সেতু দু’টি ভেঙে ফেলার পর দীর্ঘ দিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় সাতবাড়িয়াসহ আশপাশের সাত-আট গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও কাজের ধীরগতির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সেতু দু’টি হলো উত্তর সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সেতু এবং সাতবাড়িয়া নাইয়ারা ইউছুপের বাড়ির সামনের সেতু। সরেজমিন দেখা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পুরনো সেতু দু’টি ভেঙে ফেলা হলেও এখনো নির্মাণকাজ দৃশ্যমানভাবে এগোয়নি। উত্তর সাতবাড়িয়া সেতুর পাশে বাঁশের তৈরি অস্থায়ী সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন স্থানীয়রা। অপর সেতুটির ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু দু’টি নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। পুরনো সেতু ভেঙে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণসামগ্রীও আনে। কিন্তু কাজ শুরুর কিছুদিন পর তা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
সেতু দু’টি নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলায় সাতবাড়িয়া, নাইয়ারা, চৌকুড়ী, ঢালুয়া, আলিয়ারা, বক্সগঞ্জ ও গুণবতীসহ আশপাশের এলাকার সাথে যোগাযোগে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে নাঙ্গলকোট, ফেনীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতে সময় ও ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে রোগী ও বয়স্কদের বাঁশের সেতু পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সাতবাড়িয়া গ্রামের এনামুল হক ছোটন বলেন, সেতু দু’টি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় রোগী, প্রসূতি নারীসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহআলম ও রফিক মজুমদার বলেন, দুই বছর ধরে সেতু ভেঙে রাখায় সাত-আট গ্রামের মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করা না হলে ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলের দাবি জানান তারা।
নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান সিকদার বলেন, নদীর পানি কমার সাথে সাথে সেতু দু’টির নির্মাণকাজ শুরু হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।