গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্স (তড়কা) রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনে। এর মধ্যে উপজেলার পূর্ব বাছহাটিতেই আক্রান্ত ২৬ জন। আর অন্যরা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: কামরুল হাসান বলেন, ‘আগে ৩৭ জন ছিল, নতুন করে আরো ছয়জন একই উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৯ জন নারী, ১৪ জন পুরুষ ও চারজন শিশু আগে ছিল। নতুন ছয়জনসহ মোট ৪৩ জনকে চিকিৎসা ও অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ও ১১ সেপ্টেম্বর সর্বানন্দ ইউনিয়নের পূর্ব বাছহাটি গ্রামের মঞ্জুরুল ইসলামের একটি অসুস্থ গাভী জবাই করে ১০০ পরিবারের মাঝে গোশত বিতরণ করা হয়। সেই গোশত কাটাকাটি ও খাওয়ার পর থেকেই গ্রামবাসীর শরীরে জ্বর, হাত-পায়ে কালো ফোসকা ও ক্ষত দেখা দেয়।
অ্যানথ্রাক্স রোগ মূলত ব্যাকটিরিয়ার স্পোর বা রেণুর মাধ্যমে আক্রান্ত পশু থেকে মানুষ ও অন্য প্রাণিতে ছড়ায়। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদিপশু জবাই, গোশত কাটা, ধোয়া বা মৃত পশুর চামড়া, পশম ও হাড় নাড়াচাড়া করার সময়ও ছড়াতে পারে।
এদিকে আতঙ্কে স্থানীয়রা ফ্রিজে রাখা গোশত মাটিতে পুঁতে ফেলেছেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত ১৯ হাজার গবাদিপশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। আরো ১০ হাজার টিকার চাহিদা পাঠানো হয়েছে। উপজেলায় দুই লাখ ৫৪ হাজার গরু রয়েছে।’
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অসুস্থ পশু জবাই না করতে, মৃত পশুর সংস্পর্শে না আসতে ও উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।





