রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার প্রধান ডাকঘর ভবনের সংস্কারকাজ প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ঠিকাদার কাজ ফেলে উধাও রয়েছেন। ফলে জরাজীর্ণ ভবনে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি নথিপত্র ও ডাকসেবায় বিঘœ ঘটছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মূল অফিস কক্ষের দরজা-জানালা নেই। ভবনের ভেতরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে কাঠ ও খড়ি-লাকড়ি। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোটরসাইকেলও রাখা হচ্ছে সেখানে। ফলে একসময়ের কর্মচঞ্চল অফিস কক্ষটি এখন অনেকটা পরিত্যক্ত ও ভুতুড়ে অবস্থা। ভবনটির নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। মূল এতে ডাকসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র, নথি ও অন্যান্য ডাকসামগ্রী সংরক্ষণ ও বিতরণেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা ।
মূল ভবনের পাশে প্রায় ১০ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি ছোট কক্ষে চারটি টেবিল পেতে আটজন ডাককর্মীকে ঠাসাঠাসি করে দাফতরিক কাজ করছেন। পাশেই প্রায় ছয় ফুট আয়তনের আরো ছোট একটি কক্ষে উপজেলা পোস্টমাস্টার দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাভাবিকভাবে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কারে ২০২৩ সালে টেন্ডার পেয়ে কাজ শুরু করে ঝিনাইদহের একজন ঠিকাদার। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর ঠিকাদারের দেখা মেলেনি।
কালীগঞ্জ উপজেলা পোস্টমাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুর রহমান জানান, আমি যোগদানের আগ থেকেই ভবনটি বেহাল। আমার দায়িত্ব পালনকালে ঠিকাদার একদিনও কাজ করেনি। প্রকল্পের সাব-ইঞ্জিনিয়ার তাইবুর রহমান বলেন, প্রকল্পটির ব্যয় বরাদ্দ কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। সংস্কারকাজ পুনরায় শুরু হবে। কালীগঞ্জ ইউএনও রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেননি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।





