শফিউল আযম বেড়া (পাবনা)
প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পাবনায় প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নানা সমস্যায় জর্জরিত। জরাজীর্ণ ভবন, ওষুধের অপ্রতুলতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) উপস্থিতি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত তদারকির ঘাটতির কারণেও এসব ক্লিনিকে কাক্সিক্ষত সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পাবনায় মোট ২২৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে পাবনা সদরে ২৭টি, ঈশ্বরদীতে ২৮টি, আটঘরিয়ায় ২২টি, বেড়ায় ২৯টি, ফরিদপুরে ১৩টি, ভাঙ্গুড়ায় ১৬টি, চাটমোহরে ৩৩টি, সাঁথিয়ায় ২৯টি ও সুজানগরে ২৯টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন করে প্রশিক্ষিত সিএইচসিপি থাকার কথা। তারা মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান ও সাধারণ রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। বর্তমানে জেলার ২২৬টি পদের বিপরীতে ২২০ জন সিএইচসিপি কর্মরত রয়েছেন। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ২০২৩ সালে নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন সিএইচসিপি এখনো বেতন পাননি বলেও জানা গেছে।
বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া-নাকালিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি আব্দুস ছাত্তার বলেন, ক্লিনিকে ২৮ ধরনের ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এক মাসের জন্য বরাদ্দ করা ওষুধ প্রায় ছয় হাজার মানুষের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষ করে শিশুদের সর্দি-জ্বর ও ডায়রিয়ার ওষুধের চাহিদা বেশি থাকায় মাসের মাঝামাঝি তা শেষ হয়ে যায়।
চরাঞ্চলের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সাধারণ চিকিৎসা, ওষুধ ও পরামর্শের জন্য নিম্নআয়ের মানুষ কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর নির্ভরশীল। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াত কঠিন হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের জন্য এসব ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ। তবে কোনো কোনো ক্লিনিক নির্ধারিত সময়ে খোলা ও বন্ধ না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।





