কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য বরাদ্দ করা সার পাচার হয়ে যাচ্ছে মিয়ানমারে। এতে স্থানীয় বাজারে চাহিদামতো সার না পেয়ে সঙ্কটে পড়েছেন আমন চাষিরা।
চাষিদের আশঙ্কা, আমন ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে না পারলে ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় কৃষক নুরুল আলম বলেন, ‘ধানের জমিতে এখন সার দরকার। কিন্তু বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী সার পাওয়া যাচ্ছে না। যদি এভাবে সার পাচার হতে থাকে, তাহলে আমাদের মতো কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়বে, আবার ফলনও কমে যেতে পারে।’
পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী জানান, সার সঙ্কটের জন্য মিয়ানমারে পাচারের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পদ-পদবি ইয়াবা কারবারিদের দেয়া হয়েছে। নেতা নামধারী সেই ইয়াবা কারবারিরাই মিয়ানমারে সার পাচার করছে।
সারের সঙ্কটের কথা জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাফর আলম চৌধুরী বলেন, ‘অবসরজনিত কারণে আমি এখন কৃষিকাজ করি। জমির জন্য সার কিনতে মোহাম্মদ কবির সার ডিলারের দোকানে দুই-তিনবার গিয়েছি। কিন্তু সার না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। আমরা যদি প্রয়োজনের সময় সারই না পাই, তাহলে কৃষিকাজ করব কিভাবে?’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি না থাকলে কৃষি উপকরণ পাচারও ঠেকানো কঠিন হবে। তাদের দাবি, সার পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে এর সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার যাতে কোনোভাবেই সীমান্তপথে পাচার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উখিয়া উপজেলা বি সি আই সি সার ডিলারদের সভাপতি মোহাম্মদ কবির সওদাগর বলেন,‘সম্প্রতি উখিয়ায় জব্দ করা সার ও আটক ব্যক্তিরা কক্সবাজার জেলার বাইরের লোক। উখিয়ার কোনো সার ডিলারের কাছ থেকে এসব সার নেয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ’
তার অভিযোগ, একটি শ্রেণি ডিলার ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরো বলেন, ‘ভরা মৌসুমে কৃষকরা একসাথে সার নেয়ায় সাময়িক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ‘দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সার চলে আসবে। এরপর আর সার সঙ্কট থাকবে না।’
মিয়ানমারে সার পাচারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনা শীষ সরকার বলেন, ‘মিয়ানমারে সার পাচার হচ্ছে। পাচার বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সমন্বয়ে বিজিবি, পুলিশ ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য পাচার রুটগুলোতে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ’
কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে উখিয়ায় নতুন করে সার আসবে। যেসব কৃষক এখনো একেবারেই সার পাননি, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার দেয়া হবে। তার আশ্বাস, কোনো কৃষক সার থেকে বঞ্চিত হবেন না।‘





