এফ এ আলমগীর চুয়াডাঙ্গা 
চুয়াডাঙ্গায় তুলা চাষের প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নথিতে তুলা চাষের জন্য জমি বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে অনেক জমিতে আবাদ হচ্ছে লাউ, মরিচ, ধান ও ভুট্টা। আবার তুলা চাষ না করেও তালিকায় নাম থাকায় সরকারি বীজ, সার ও কীটনাশকের বরাদ্দ চলে যাচ্ছে অযোগ্য ব্যক্তিদের নামে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার কৃষি উপকরণ বিতরণে অনিয়মের নানা চিত্র দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় তিন হাজার ৩০০ তুলাচাষির তালিকা তৈরি করেছে তুলা উন্নয়ন বোর্ড। তবে তালিকা যাচাই ও সরেজমিন অনুসন্ধানে জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন এবং উপকরণ বিতরণে নানা অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
জীবননগর উপজেলায় জয়নাল আবেদীন নামে এক কৃষকের জমিতে তুলার পরিবর্তে লাউ ও মরিচের আবাদ দেখা গেছে। গত বছর তুলা চাষ করলেও চলতি মৌসুমে চাষ না করার সিদ্ধান্তের পরও তালিকায় তার নাম রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই উপজেলার নজরুল ইসলামের জমিতে পাট কাটার পর ভুট্টা আবাদের প্রস্তুতি চলছে। নাজমুল নামে আরেক কৃষকের জমিতে আবাদ হচ্ছে ধান।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তুলা চাষের শুরুতেই বিনামূল্যে বীজ ও সার দেয়ার কথা থাকলেও ইউনিট অফিসাররা আগে চাষ শুরু করার শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন। এতে সময়মতো উপকরণ না পেয়ে বিপাকে পড়ছেন প্রকৃত তুলা চাষিরা।
আন্দুলবাড়িয়া তুলা ইউনিটে অন্তত ১০০ কৃষকের সন্ধান পাওয়া গেছে, যাদের নামে প্রতিটি প্যাকেজে আট হাজার টাকার উপকরণ বরাদ্দ থাকলেও তারা কিছুই পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বেলগাছি গ্রামের আব্দুর রহিমের নাম সরকারি নথিতে দুই জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করে বরাদ্দ তোলা হলেও তিনি উপকরণ পেয়েছেন একবার। বাকি বরাদ্দের উপকরণ কোথায় গেছে, তার কোনো সদুত্তর মেলেনি।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, প্রণোদনা পেতে একজন কৃষকের ন্যূনতম এক বিঘা বা ৩৩ শতক জমি থাকতে হয়। অথচ তালিকাভুক্ত অনেক কৃষকেরই এত জমি নেই। হাজরাহাটি গ্রামের তরিকুল ইসলামের মতো কয়েকজনের ১০ থেকে ১৫ কাঠা জমি থাকলেও নথিতে এক বিঘা দেখিয়ে প্রণোদনা অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে।
প্রদর্শনী প্লটের বরাদ্দ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি শেখানোর জন্য প্রদর্শনী প্লটে উপকরণের পাশাপাশি সাইনবোর্ড, শ্রমিক ও সেচ খরচ বাবদ অতিরিক্ত ১৬ হাজার টাকা নগদ দেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু আলমডাঙ্গার মুন্সীগঞ্জের আকবর আলীসহ একাধিক কৃষকের জমিতে সাইনবোর্ড থাকলেও তারা ওই টাকা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত তিন হাজার ৩০০ কৃষকের প্রায় ২০ শতাংশের ন্যূনতম জমি নেই এবং ১৫ শতাংশ কৃষক তুলা চাষই করেননি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম ইজাজুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছেন ইউনিট অফিসাররা। চূড়ান্ত তালিকায় সংশোধন আনা হবে। তবে তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং প্রদর্শনী প্লটের জন্য অতিরিক্ত নগদ বরাদ্দ ছিল না।