কর্ণফুলী উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মিউটেশন (নামজারি) কার্যক্রমে অনিয়ম, হয়রানি ও ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোহাম্মদ লোকমান প্রতিকার চেয়ে তহশিলদার জহির রায়হান ও তার সহকারী ‘মো: শহীদ’-এর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবরও অভিযোগ দেয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগে লোকমান জানান, তার ও তার ভাতিজি শিরিন আক্তার পৃথক দুটি নামজারি-জমাভাগ মামলার ফাইল জমা দেয়ার পর ‘শহীদ’ নামে এক ব্যক্তি প্রতি মামলার বিপরীতে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তিনি প্রতি ফাইলে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা দেন বলে অভিযোগ করেন। বিকাশে টাকা পাঠানোর স্ক্রিনশটও দেখান লোকমান। এরপরও বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ ও হয়রানি করা হয় বলে তার দাবি।

লোকমানের অভিযোগ, সরেজমিনে জমি পরিমাপের পরও কাগজপত্রে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে পুনরায় অর্থ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তহশিলদার জহির তাকে নামজারি না হওয়ার বিষয়ে হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সংবাদকর্মীদের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার কাছে আরো বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন লোকমান। 

তার দাবি, পরবর্তীতে দুই মামলার জন্য ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

এর আগে একই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির একাধিক অভিযোগ ওঠে বলেও জানা যায়।

অভিযোগের বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নবনিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রিদুয়ানুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য কর্ণফুলী উপজেলার নবনিযুক্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে পত্র প্রেরণ করা হবে।’

অভিযোগের বিষয়ে তহশিলদার জহির রায়হানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

এর আগে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগে উল্লিখিত ‘মো: শহীদ’-এর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা অনৈতিক অর্থ দাবির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। 

অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।