নদীবেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলার লালমোহন উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে মুরগি পালন ও পোল্ট্রি শিল্পের পরিধি। এ শিল্পকে ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন উপজেলার অনেক উদ্যোক্তা। পাশাপাশি পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় কমছে শিক্ষিত বেকারত্বও। তবে সম্ভাবনাময় এ শিল্প নানা সঙ্কট ও সমস্যায় জর্জরিত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।
পোল্ট্রি শিল্পে গোশতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ডিম উৎপাদন করে উপজেলার বিভিন্ন খামারি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে সরবরাহ করছেন। এতে অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কিন্তু মুরগির খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, রোগবালাই, ওষুধের অতিরিক্ত খরচ এবং ডিমের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় মাঝে মাঝে লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের।
খামারিদের অভিযোগ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতর ও পশু হাসপাতাল থাকলেও নিয়মিতভাবে খামার পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও রোগবালাই প্রতিরোধে সহযোগিতা পাচ্ছেন না তারা। এ নিয়ে একাধিক পোল্ট্রি খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের পোল্ট্রি খামারি হাজী আব্দুল মালেক বলেন, ‘প্রায় ২০ একর জমিতে তিনি পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলেছেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ১৫ হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার ডিম উৎপাদন হয়। খামারে ১০ জন শ্রমিকও কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘মুরগির খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগবালাই থেকে মুরগিকে রক্ষা করতে নিয়মিত ওষুধ দিতে হয়। এতে খামার পরিচালনায় ব্যয় বাড়ছে।
হাজী আব্দুল মালেক আরো বলেন, ‘গত ১৫ বছরে উপজেলা পশু হাসপাতালের কোনো চিকিৎসকের কাছ থেকে খামার পরিচালনা কিংবা মুরগির রোগবালাই বিষয়ে পরামর্শ পাইনি। তাদের কাউকেও খামারে এসে সরেজমিনে পরামর্শ দিতে দেখিনি। তবে পোল্ট্রি খামারের মাধ্যমে আমরা স্বাবলম্বী হয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে খামারিদের বিনা সুদে ঋণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শের ব্যবস্থা করা হলে এ শিল্প আরও এগিয়ে যাবে।’
একই অভিযোগ করেন উপজেলার পোল্ট্রি খামারি মো: খায়রুল হাসান কাঞ্চন, মো: হেলাল উদ্দিন মোল্লা, হাজী আবু তাহের, মো: ফরিদ উদ্দিন, মো: আহমদ উল্যাহ, মো: জাকির মাতাব্বর, মো: হুমায়ুন কবির ও মো: সেলিমসহ আরো অনেকে।
তারা বলেন, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। কিন্তু রোগবালাই প্রতিরোধ কিংবা মুরগির চিকিৎসার বিষয়ে প্রাণিসম্পদ দফতর থেকে নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তাদের খামারগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম উৎপাদন হচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
খামারিরা আরো বলেন, পোল্ট্রি শিল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলের শত শত বেকার মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন এবং স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ শিল্পের আরো প্রসারে সরকারের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ও বিনা সুদে ঋণ, নিয়মিত খামার পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খামারিদের অভিযোগ সত্যি। নিয়মিতভাবে পোল্ট্রি খামার ও মুরগির তদারকি করার নিয়ম রয়েছে। তবে জনবল সঙ্কটের কারণে খামারিদের নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া সম্ভব হয়নি।’
স্থানীয় খামারিরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ শর্তে ঋণ, নিয়মিত চিকিৎসা ও কারিগরি পরামর্শ নিশ্চিত করা গেলে লালমোহনে পোল্ট্রি শিল্পের আরো সম্প্রসারণ ঘটবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ শিল্প।











